ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান সেতু ভেঙে নিহত পাঁচ শিশুর শেষকৃত্য সম্পন্ন
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান সেতু ভেঙে ডুবে নিহত পাঁচ শিশুর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ রোববার সকালে স্থানীয় গ্রামগুলোতে পৃথক জানাজা অনুষ্ঠানের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় জেলা প্রশাসন একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নিহত শিশুদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে মায়ামনি (১০ বছর) ও ছেলে মোহাম্মদ মিহাদ (১২ বছর)। এছাড়াও ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আবদুল মোতালেব (৬ বছর) ও মেয়ে খাদিজা (১২ বছর) এবং বেলতলী এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৪ বছর) এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে ঈদের ছুটিতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসমান সেতুর ওপর প্রচুর লোকজন ভিড় জমায়। অতিরিক্ত চাপে সেতুটি ভেঙে যায়, যার ফলে অনেকে নদে পড়ে যান। যদিও অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন, কিন্তু পাঁচ শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় গত রাতে একে একে সব শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশগুলি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং আজ সকালে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া
জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে নিহত শিশুদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে এবং এই দুর্ঘটনার পেছনের কারণগুলি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকস্তব্ধ করেছে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসমান সেতুগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন যে সেতুগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন, বিশেষ করে উৎসব বা ছুটির দিনে যখন ভিড় বেশি হয়।



