কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার রাত ২টা ৫৫ মিনিটে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় সাত পুরুষ, দুই নারী ও তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।
গেটম্যান দুজনকে বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ
দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসান নামে দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘ঢাকা মেইল ট্রেনটি নির্ধারিত স্থানে পৌঁছার পর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেটম্যানের সিগন্যাল পাওয়ার কথা। কিন্তু তখন গেটম্যানকে না পাওয়ায় কমিউনিকেশনে গ্যাপ হয়ে যায়। যখন গেটম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, ততক্ষণে বাসটি ক্রসিংয়ে উঠে গিয়ে ট্রেনটির মুখে পড়ে।’
দুটি তদন্ত কমিটি গঠন
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটির সদস্যদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া।
রেল যোগাযোগে ব্যাঘাত
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ডাউন লাইন (চট্টগ্রামমুখী লাইন) দিয়ে একটি মেইল ট্রেন চলাচল করেছে। আজ সকাল সোয়া ৮টার দিকে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘এই মাত্র ট্রেনের মুখ থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। দ্রুতই ট্রেনের উদ্ধারকাজ শেষ হবে।’ দুর্ঘটনার আগে সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে কুমিল্লা রেলস্টেশন থেকে টু ডাউন (চট্টগ্রাম মেইল) চট্টগ্রাম অভিমুখে রওনা হয় এবং ৭টা ৩৫ মিনিটে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা অতিক্রম করে।
দুর্ঘটনার পটভূমি
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে পালাক্রমে দুজন গেটম্যান সিগন্যালের কাজে নিয়োজিত থাকেন। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যোগাযোগের গ্যাপের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর রেলপথে স্বাভাবিক চলাচল পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



