বাগেরহাটের কচুয়ায় ঈদের আগের দিন আগুনে পুড়ল ৯ ব্যবসায়ীর কপাল
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ঈদের আগের দিন ভোররাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে কচুয়া উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজের ওপারে মঘিয়া অংশে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে ৯টি দোকান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়।
ব্যবসায়ীদের করুন অবস্থা
ঈদের আগমুহূর্তে একমাত্র আয়ের উৎস এই দোকানগুলো পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েছেন। অনেকের জীবনের শেষ সম্বল ছিল এই দোকানগুলো। পুড়ে যাওয়া চায়ের দোকানদার সোহাগ মাঝি বলেন, "অনেক কষ্ট করে দোকানটি দিয়েছিলাম। এনজিওর ঋণ ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে দুটো ফ্রিজ কিনেছিলাম, ঈদ উপলক্ষে অনেক টাকার মালামালও উঠিয়েছিলাম। সব শেষ হয়ে গেল। কিভাবে ঋণ শোধ করব, আবার ব্যবসা শুরু করব, আল্লাহই ভালো জানেন।"
ক্ষতির পরিমাণ
ক্ষতিগ্রস্ত সারের ডিলার ‘মীম এন্ড মুন’-এর স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, বিকাশ-নগদ-ফ্লেক্সিলোডের দোকান, লন্ড্রি, সেলুন ও চায়ের দোকানসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা খুবই বিপদে পড়ে গেলাম।"
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসান, বাজার কমিটির নেতা, স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসান জানান, পরবর্তীতে আরও সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সহায়তার প্রতিশ্রুতি
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিন প্রদানের কথা রয়েছে। এই সহায়তা ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে, বিশেষ করে ঈদের মৌসুমে ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি মারাত্মক বিপর্যয়। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।



