সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ মিরাজের ৩৬ ঘণ্টা: উদ্ধার তল্লাশি অব্যাহত
রাজধানীর সদরঘাটে দুটি লঞ্চের মাঝে পড়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকার এক যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার খোঁজ এখনও মেলেনি। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম মিরাজ, যিনি ৫২ বছর বয়সী এবং একই দুর্ঘটনায় নিহত সোহেলের বাবা হিসেবে পরিচিত।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বুধবার বিকালে মিরাজ তার ছেলে সোহেল ও পুত্রবধূ রুবিকে নিয়ে একটি ট্রলারে করে মাঝ নদীতে থাকা লঞ্চে উঠতে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ এবং ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চের মাঝখানে পড়ে ট্রলারটি চাপা পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সোহেল নিহত হন এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবি আহত অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, নিখোঁজ মিরাজের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি এবং তাকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে নাগরিকদের অবহিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস সদরঘাট স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলামের মতে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে, কিন্তু মিরাজের কোনও খোঁজ মেলেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুক্রবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় আবারও তল্লাশি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে নৌ পুলিশও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা
দুর্ঘটনাটি নৌ নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষত ব্যস্ত নদীপথে যাত্রী পরিবহনের সময় সতর্কতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
এই ঘটনায় আহত রুবির চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং তার স্বাস্থ্য অবস্থা পর্যবেক্ষণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে। পরিবারটি এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, এবং তারা মিরাজের দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করছে।



