ঈদযাত্রার তীব্র ভিড়ে সদরঘাটে যাত্রীদের উপচেপড়া অবস্থা
ঈদুল ফিতরের ছুটিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালজুড়ে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার লঞ্চ দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাজারো যাত্রীর ঘরমুখী হওয়ার তাগিদে টার্মিনাল এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে।
দুর্ঘটনার পরও যাত্রীদের ঝুঁকি নেওয়ার মনোভাব
বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে একের পর এক লঞ্চ ছেড়ে গেলেও যাত্রীচাপের কোনো কমতি দেখা যায়নি। যাত্রীদের অনেকেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গতকালের দুর্ঘটনার কারণে তাদের মনে কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও ঈদের আগে বাড়ি ফিরতেই হবে— এমন জরুরি তাড়না থেকেই তারা নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করছেন।
একজন যাত্রী বলেন, "ভিড় তো থাকবেই, ঈদের সময় এটা স্বাভাবিক ঘটনা। ভয় লাগলেও বাড়ি যেতেই হবে। উপায় নাই। ঢাকায় তো কোনও স্বজন নাই। ঈদ করতে তো হবে।" এই বক্তব্য অনেক যাত্রীর মনোভাবকেই প্রতিফলিত করে, যারা পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপনের জন্য যেকোনো মূল্যে যাত্রা করতে প্রস্তুত।
বুধবারের দুর্ঘটনা ও উদ্ধার কাজের বাধা
এর আগে বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সদরঘাটে সংঘটিত লঞ্চ দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও রাতের অন্ধকার ও প্রতিকূল জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার কাজ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করা হলেও প্রবল স্রোত, লঞ্চের চাপ এবং যাত্রীদের ভিড়ের কারণে ডুবুরি দল তাদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালাতে বেগ পাচ্ছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
যাত্রী নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
ঈদযাত্রার এই চাপ মোকাবিলায় টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। তবে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় এবং দুর্ঘটনার পরও যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি এই ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সর্বোপরি, ঈদের আনন্দে মাতোয়ারা হতে চাওয়া হাজারো মানুষের এই যাত্রা দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার সামর্থ্য ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার উপর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



