দিল্লির পালামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: তিন শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু
ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিমের পালাম এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় তিন শিশুসহ অন্তত সাত জন প্রাণ হারিয়েছেন। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টার দিকে ওই ভবনের একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হয়েছে
খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৩০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ভেতরে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় পুলিশ এবং জরুরি সেবা দানকারী অন্যান্য দলগুলো উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, "একটি আবাসিক ইউনিটে আগুন লাগার তথ্য পাওয়ার পর থেকেই আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে ভেতরে বেশ কিছু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।" উদ্ধার অভিযান চলাকালীন সাত জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে তিন জনই নাবালক শিশু। আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কারণে ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং ভেতরে থাকা আসবাবপত্রসহ মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
লেফটেন্যান্ট গভর্নরের শোক ও উদ্বেগ
দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তারানজিৎ সিং সান্ধু পালাম মেট্রো স্টেশনের নিকটবর্তী এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, "এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।" বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হতাহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও অজানা
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও ফরেনসিক দল আগুনের উৎস এবং কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে যে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এই ঘটনার পর দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।
