ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে যমুনা সেতুতে যানবাহন পারাপার কয়েক গুণ বৃদ্ধি
ঈদে যমুনা সেতুতে যানবাহন পারাপার কয়েক গুণ বৃদ্ধি

ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে যমুনা সেতুতে যানবাহন পারাপার কয়েক গুণ বৃদ্ধি

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপে যমুনা সেতুতে যানবাহন পারাপার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রায় ৪৭ হাজার যানবাহন চলাচল করেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ২৯ হাজার বেশি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

যানবাহন পারাপারের পরিসংখ্যান

যমুনা সেতু সাইট অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সেতু দিয়ে মোট ৪৬ হাজার ৯৪৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বমুখী ছিল ২৭ হাজার ৪৯৮টি এবং পশ্চিমমুখী ছিল ১৯ হাজার ৪৪৫টি। সাধারণত এই সেতু দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৮ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। সেই হিসাবে মঙ্গলবার অতিরিক্ত ২৮ হাজার ৯৪৩টি যানবাহন বেশি চলাচল করেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

টোল আদায়ের বিশাল অঙ্ক

যানবাহন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক দিনে বড় অঙ্কের টোল আদায় হয়েছে। মঙ্গলবার সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা টোল সংগৃহীত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এদিন পূর্বমুখী যানবাহন থেকে ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা এবং পশ্চিমমুখী থেকে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। এই টোল আদায়ের পরিমাণ স্বাভাবিক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা ঈদের সময় যানবাহনের চাপের মাত্রা প্রতিফলিত করে।

যানবাহন চাপ বৃদ্ধির কারণ

গত সোমবার সরকারিভাবে শেষ কর্মদিবস থাকায় ওই দিন বিকেলের পর থেকেই মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করেন। এর প্রভাবে যমুনা সেতুতে ঘরমুখো যানবাহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সেতু। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় প্রতি বছর ঈদের সময় এখানে যানবাহনের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়, যা এবারও ব্যতিক্রম নয়।

কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, যানবাহনের চাপ বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঈদের সময় যানবাহন ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের কোনো অসুবিধা না হয়।

এছাড়াও, কর্তৃপক্ষ যানজট কমাতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং টোল আদায়ের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ঈদের ছুটিতে মানুষের নিরাপদ ও সুগম যাতায়াত নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।