বজ্র-আশ্রয় কেন্দ্র ও খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন মন্ত্রীর
বজ্র-আশ্রয় কেন্দ্র ও খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, দেশের হাওর ও উত্তরাঞ্চলে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানোর পাশাপাশি বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র বসিয়ে বজ্র-আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা ইউনিয়নে দাশের হাটের ছড়া সংলগ্ন দুই কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে উদ্যোগ

মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল এবং হাওর অঞ্চলে গত দুই তিন বছরে বজ্রপাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। আমরা এসব অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্র করে দেবো এবং সেখানে বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করে দেবো যাতে মানুষের প্রাণহানি না ঘটে। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যেমন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, সাইক্লোন শেল্টার যেমন রয়েছে একই আঙ্গিকে এখানে আমরা বজ্র-আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করবো।

খাল খনন কর্মসূচির গুরুত্ব

খাল খনন কর্মসূচি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যুগান্তকারী উদ্যোগ মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন এই কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আবার দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খাল খনন কর্মসূচির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খালের পানি দিয়ে কৃষকরা শুকনা মৌসুমে চাষাবাদ করতে পারবেন। খালের পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ করা যাবে, একই সঙ্গে মাছ চাষ করা হবে। খালের দুই ধারে গাছ লাগানো হবে। বনায়ন করা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং তা হবে দৃষ্টিনন্দন। শুকনা মৌসুমে পানির স্বল্পতা দূর হবে আর বর্ষায় অতিরিক্ত পানি নির্গমন হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুধী সমাবেশ ও অন্যান্য কার্যক্রম

খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী সংক্ষিপ্ত সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেল বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফিজার রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও শফিকুল ইসলাম বেবুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে রবিবার সকালে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু কুড়িগ্রাম পৌঁছে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। পরে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। সফর কর্মসূচির শেষ ধাপে মন্ত্রী কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

চলতি বছরের খাল পুনঃখনন কর্মসূচি

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে কুড়িগ্রামের ৫টি উপজেলায় ৭ দশমিক ২৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি ৮৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪৭ টাকা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় ৪৩০ জন শ্রমিক উপকারভোগী হবে বলে জানা গেছে।