বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি: মে মাসেই সবচেয়ে বেশি তীব্র ও ভয়াবহ
বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি: মে মাসে সবচেয়ে ভয়াবহ

বাংলাদেশে বছরে মোট বজ্রপাতের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ ঘটে মার্চ থেকে মে মাসে, আর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয় প্রায় ৫১ শতাংশ। তবে অন্যান্য মাসের তুলনায় মে মাসে হওয়া বজ্রপাতগুলো বেশি তীব্র ও ভয়াবহ রূপ নেয়, ফলে এ সময়টিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বজ্রপাত প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় এই তথ্য উঠে আসে।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মতামত

ব্র্যাক ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তাফা এবং ব্র্যাকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক লেয়াকত আলী।

আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তাফা বলেন, এমন কোনো দুর্যোগ নাই যা বাংলাদেশে নেই। বজ্রপাত আগেও ছিল, এখনো আছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে। বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় কৃষকের। এরপর স্কুলের শিক্ষার্থী ও নারীরা। বজ্রপাতে মৃত্যু কমিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, নিখুঁতভাবে আবহাওয়া অধিদপ্তর পাঁচ দিনের পূর্বাভাস দিতে পারে। কিন্তু সেই অনুযায়ী ‘আর্লি অ্যাকশন’ না হওয়ায় প্রাণহানি ঠেকানো যাচ্ছে না। বজ্রপাতে মৃত্যু শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আগাম সতর্কবার্তা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সমন্বয় প্রয়োজন। তাহলে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এবং মাঠ পর্যায়ের সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মে মাসের বজ্রপাতের ভয়াবহতা

‘বজ্রপাত, বজ্রপাত ও বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক। তিনি বলেন, মে মাসে ঘটা বজ্রপাতগুলোর তাণ্ডব ও ভয়াবহতা বেশি। এ মাসের বজ্রঝড়গুলো তীব্র কালবৈশাখীর রূপ নেয়। যখনই বজ্রধ্বনি শুরু হবে, সঙ্গে সঙ্গে ঘরে চলে আসতে হবে। মৃত্যুহার কমাতে সচেতনতার বিকল্প নেই।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের হার বেড়েছে। এ অবস্থায় শুধু সতর্কবার্তা দেওয়া যথেষ্ট নয়; বরং বজ্রপাতের আগে, চলাকালীন এবং পরে মানুষের করণীয় সম্পর্কে ব্যাপকভাবে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়, বিশেষ করে ঘরের ভেতরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্যানেল আলোচনা ও অংশগ্রহণ

প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম কামরুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাতিমা আক্তার, বুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর মঞ্জুর এবং সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি)-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা।

কর্মশালায় বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় হাওড় ও বজ্রপাতপ্রবণ বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন ব্র্যাক, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এবং রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিহ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের (আরআইএমইএস) প্রতিনিধিরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে সচেতনতা ও সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।