ভোলার তজুমদ্দিন-মনপুরা নৌরুটে ট্রলারডুবি: স্কুল ফিডিং খাদ্যসহ বিপুল মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত
ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলা থেকে মনপুরা উপজেলার হাজিরহাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি পণ্যবোঝাই ট্রলার ডুবে গেছে, যাতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্য সামগ্রী ও ব্যবসায়ীদের মালামালসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তজুমদ্দিনের চৌমুহনী লঞ্চঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ঘটে, যখন প্রবল স্রোত ও একটি লঞ্চের তীব্র ঢেউয়ের প্রভাবে ট্রলারটি ডুবে যায়।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ
ট্রলারের মাঝি হিরনের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রলারটি তজুমদ্দিন থেকে মনপুরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার সময় চৌমুহনী ঘাটের কাছাকাছি মেঘনায় প্রবল স্রোতের মুখোমুখি হয়। একটি লঞ্চের তৈরি ঢেউয়ের তোড়ে পণ্যবোঝাই ট্রলারটি অস্থির হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়। যাত্রী ও মাঝিসহ অন্যান্যরা দ্রুত তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ট্রলারে থাকা মালামাল নদীতে তলিয়ে যায়।
উদ্ধারকাজের অংশ হিসেবে, সর্বশেষ বুধবার সকালে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির কিছু অংশ ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে মাঝি হিরন নিশ্চিত করেছেন। তবে, ক্ষতির পরিমাণ ইতিমধ্যেই ব্যাপক হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য
ট্রলারে থাকা মালামালের তালিকা থেকে জানা যায়, স্কুল ফিডিংয়ের জন্য নির্ধারিত ৯৩৪ পিস রুটি, ১৫০ বস্তা মুরগির খাদ্য সামগ্রী, ১১০ বস্তা চাউল এবং ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নদীতে তলিয়ে গেছে। মাঝি ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষতির অর্থমূল্য অন্তত ২০ লাখ টাকা, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তজুমদ্দিন থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে, অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্য এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
তজুমদ্দিন উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. রেজাউল ইসলাম ঘটনাটির ব্যাপারে মন্তব্য করে বলেন, "তজুমদ্দিনের মেঘনায় ট্রলারডুবির ঘটনায় মনপুরার ব্যবসায়ীদের মালামালের ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু যাত্রীরা নিরাপদে তীরে উঠতে পেরেছেন।" তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে।
এই ঘটনা ভোলা অঞ্চলের নৌপরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে মেঘনার মতো দুর্বল নদীপথে পণ্য পরিবহনের সময় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।



