পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের জরুরি নির্দেশ: কারাগারে ইমরান খানের চোখের চিকিৎসা পর্যালোচনা
ইমরান খানের চোখের চিকিৎসায় সুপ্রিম কোর্টের জরুরি নির্দেশ

কারাগারে ইমরান খানের চোখের মারাত্মক অবস্থা: সুপ্রিম কোর্টের জরুরি হস্তক্ষেপ

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট কারাগারে আটক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা পর্যালোচনার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে। আদালত নিযুক্ত আইনজীবী সালমান সফদারের প্রতিবেদনে প্রকাশ, খানের ডান চোখের ৮৫% দৃষ্টিশক্তি ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে এবং অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা না পেলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আদালত নিযুক্ত আইনজীবীর উদ্বেগজনক প্রতিবেদন

বারিস্টার সালমান সফদার গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে প্রায় দুই ঘণ্টা ইমরান খানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাত পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ডান চোখে মাত্র ১৫% দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট আছে। প্রায় তিন মাস ধরে চোখে ঝাপসা দেখার অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সফদার লিখেছেন, "অবশেষে খানের ডান চোখে হঠাৎ ও সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা ঘটে। ৬ ফেব্রুয়ারির মেডিকেল রিপোর্টে রাইট সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন রোগ শনাক্ত হয়েছে, যা রেটিনায় রক্ত জমাট বাঁধার কারণে সৃষ্ট একটি মারাত্মক অবস্থা। ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ এই রোগ নিশ্চিত করেছেন।"

সুপ্রিম কোর্টের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষকে ইমরান খান পরীক্ষার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি জোর দিয়ে বলেন, "খানের স্বাস্থ্য জরুরি মনোযোগের দাবি রাখে।" আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে খান যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী তার দুই ছেলের সাথে টেলিফোনে কথা বলতে পারবেন।

এই দুটি পদক্ষেপ ১৬ ফেব্রুয়ারির之前 সম্পন্ন করার জন্য আদালত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, চিকিৎসায় আরও বিলম্ব হলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ বিশেষজ্ঞ চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তাৎক্ষণিক স্বাধীন পরীক্ষার সুপারিশ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পটভূমি

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তার ক্রমাবনতিশীল দৃষ্টিশক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটি কারাগার কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে এবং নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করেছে:

  • ব্যক্তিগত চিকিৎসকের নিরবচ্ছিন্ন অ্যাক্সেস
  • বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বিশ্বস্ত হাসপাতালে স্থানান্তর
  • পূর্ণ পরিবার দর্শনের অধিকার পুনরুদ্ধার
  • দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা

সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২২ সালে অ-আস্থা ভোটে অপসারিত হওয়ার পর আগস্ট ২০২৩ থেকে বিভিন্ন অভিযোগে কারাগারে আছেন, যা তার দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করে।

সফদারের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, খান প্রায় দুই বছর চার মাস একাকী কারা নিরোধে রাখা হয়েছে এবং তার আইনী দল ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সীমিত অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে জাতিসংঘের স্বেচ্ছাচারী আটককরণ বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ বলেছে, তার আটক আইনি ভিত্তিহীন এবং তাকে রাজনৈতিক অফিস থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে মনে হয়।

এই ঘটনা পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র করেছে, যেখানে বিশ্লেষকরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও কারাগারের অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছতা দাবি করছেন।