বার্ড ফ্লু ঝুঁকিতে সৌদি আরবের নিষেধাজ্ঞা: বাংলাদেশসহ ৪০ দেশের মুরগি-ডিম আমদানি বন্ধ
সৌদি আরবের নিষেধাজ্ঞা: বাংলাদেশসহ ৪০ দেশের মুরগি-ডিম আমদানি বন্ধ

বার্ড ফ্লু ঝুঁকিতে সৌদি আরবের কঠোর নিষেধাজ্ঞা: বাংলাদেশসহ ৪০ দেশের মুরগি-ডিম আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ও বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়ন

সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, বার্ড ফ্লুর উচ্চমাত্রার প্রাদুর্ভাব এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির গভীর ঝুঁকি মূল্যায়ন করেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মহামারীবিষয়ক সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এই দেশগুলোর তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্যের জন্য বিদ্যমান ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে না কমা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নতুন ও পুরোনো দেশ

উল্লেখ্য, তালিকাভুক্ত ৪০টি দেশের মধ্যে অনেক দেশের ওপর ২০০৪ সাল থেকেই এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বার্ড ফ্লুর বিস্তার ও ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে তালিকায় নতুন কিছু দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে:

  • ভারত
  • চীন
  • পাকিস্তান
  • যুক্তরাজ্য
  • জাপান
  • জার্মানি
  • দক্ষিণ কোরিয়া
  • মিশর
  • মিয়ানমার

এছাড়াও আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গরাজ্য বা শহর থেকে আংশিক আমদানিতে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া।

সৌদি আরবের আমদানি নির্ভরতা ও বর্তমান উৎপাদন

সৌদি আরব মূলত ওমান, নেদারল্যান্ডস, জর্ডান ও তুরস্ক থেকে বছরে প্রায় ১০ কোটি ডলারের ডিম আমদানি করে থাকে। অন্যদিকে, মুরগির মাংসের সিংহভাগ চাহিদা ব্রাজিল থেকে আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। তবে বর্তমানে সৌদি আরব তাদের প্রয়োজনীয় মুরগির মাংসের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ নিজস্ব উৎপাদন থেকেই পূরণ করছে। বাকি ৩০ শতাংশ চাহিদা এখনও আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

প্রক্রিয়াজাত পণ্যে শর্তসাপেক্ষ অনুমতি

সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, কাঁচা মুরগি ও ডিমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে প্রক্রিয়াজাত করা মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে কোনো বাধা নেই। তবে এই ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক দেশকে অবশ্যই একটি সরকারি সনদ প্রদান করতে হবে। সনদে উল্লেখ থাকতে হবে যে সংশ্লিষ্ট পণ্যটি এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে যাতে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়ে গেছে।

পাশাপাশি এসব পণ্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত স্থাপনা থেকে উৎপাদিত হতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণ না করলে প্রক্রিয়াজাত পণ্যও আমদানি করা যাবে না বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।

রপ্তানিকারক দেশগুলোর পোল্ট্রি শিল্পে প্রভাব

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে রপ্তানিকারক দেশগুলোর পোল্ট্রি শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশ নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তাদের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ভাইরাস নির্মূলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এই নিষেধাজ্ঞা শুধু অর্থনৈতিক প্রভাবই তৈরি করবে না, বরং বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলেও পরিবর্তন আনতে পারে। রপ্তানিকারক দেশগুলোকে এখন তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন করতে হবে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে।