গ্রিস-ইসরায়েল জোট ও উপসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কবিরোধী কৌশল: এক বিশ্লেষণ
গ্রিস-ইসরায়েল জোট ও উপসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কবিরোধী কৌশল

গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে ২০১৯ সালের শেষ দিক থেকে, গ্রিস উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে এমনভাবে সম্পর্ক গভীর করেছে, যা খুব কম মানুষই আগে কল্পনা করেছিলেন। প্রথম নজরে এই সম্পর্কটি স্বাভাবিক বলেই মনে হয়: একটি ইউরোপীয় দেশ জ্বালানি ও বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে, আর উপসাগরীয় দেশগুলো পাচ্ছে ইউরোপের একটি আগ্রহী অংশীদার। কিন্তু বিষয়টি গভীরভাবে দেখলে ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে গ্রিসের অগ্রযাত্রার দুই ধাপ

উপসাগরীয় অঞ্চলে গ্রিসের অগ্রযাত্রা দুটি ধাপে ঘটেছে এবং প্রতিটি ধাপই একই সঙ্গে দুটি প্রবণতার সমান্তরালে এগিয়েছে—ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান জোট এবং তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির ধারায়। মোটামুটি ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত, প্রথম ধাপটি গড়ে ওঠে তুরস্কবিরোধী একটি জোট হিসেবে। গ্রিস-ইসরায়েল-সাইপ্রাস অক্ষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই জোটে ফ্রান্স, মিসর, লিবিয়ার খলিফা হাফতার, বাশার আল-আসাদের সিরিয়া এবং ২০১৭ সালে কাতারের ওপর আরোপিত অবরোধের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবকে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।

অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে এই জোটের বাহ্যিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হলেও, এর মূল ভিত্তি ছিল নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। সে সময় এই সমন্বয় সহজেই সম্ভব হয়েছিল, কারণ আবুধাবি ও রিয়াদও বিভিন্ন পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের আঞ্চলিক নীতির সঙ্গে নিজেদের অবস্থান মিলিয়ে নিচ্ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রথম ধাপ: কৌশলগত চুক্তি ও সামরিক সহযোগিতা

এই প্রেক্ষাপটে গ্রিস উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে একাধিক কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করতে সক্ষম হয়। ২০২০ সালের নভেম্বরে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি এবং পৃথক একটি পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এতে উভয় দেশ অঙ্গীকার করে, কোনো পক্ষের সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতা হুমকির মুখে পড়লে তারা একে অপরকে সহায়তা করবে।

একই বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে গ্রিসে সামরিক শক্তি মোতায়েন করে। পাশাপাশি পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় নিরাপত্তা বিষয়ে গ্রিস, সাইপ্রাস, মিসর, ফ্রান্স ও ইসরায়েলকে নিয়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে দুই দেশ সমন্বয় জোরদার করে।

প্রতিরক্ষা চুক্তি ও ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূতকরণ

একইভাবে, ২০২১ সালে গ্রিস ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গ্রিস সৌদি আরবে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্যদের মোতায়েন করে। পাশাপাশি ‘ফ্যালকন আই’-এর মতো যৌথ বিমান মহড়া এবং উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক সফরের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

কিন্তু তুরস্কবিরোধী এই জোটের কাঠামো শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে, কারণ এর মূল ভিত্তিই বিলীন হয়ে যায়। ২০১৭ সালের উপসাগরীয় সংকটের অবসান ঘটে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর জিসিসিভুক্ত দেশগুলোকে আঙ্কারার বিরুদ্ধে ব্যবহার করার গ্রিস-ইসরায়েল পরিকল্পনা কার্যত ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় ধাপ: ইসরায়েলের সঙ্গে গভীর জোট ও তুরস্কের মোকাবিলা

এরপর ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে গ্রিস আবারও জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই দ্বিতীয় ধাপও একই দুটি প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল—ইসরায়েলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ জোট এবং তুরস্কের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা। এই পর্যায়ে গ্রিসের লক্ষ্য ছিল দ্বিমুখী। প্রথমত, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রিস-ইসরায়েল জোটের প্রভাব ও পরিসর উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত করা। দ্বিতীয়ত, বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও ভূমিকা হ্রাস করা, এমনকি সম্ভব হলে তার মোকাবিলা করা।

এই নতুন উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, গ্রিস তার নিরাপত্তা নীতিকে এমন মাত্রায় ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করেছে, যার কাছাকাছিও ইউরোপের আর কোনো দেশ নেই। এমন এক সময়ে এই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে, যখন ইসরায়েল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে একঘরে হয়ে পড়েছে এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা রাষ্ট্র পরিচালিত গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি।

অ্যাকিলিস শিল্ড ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

সংখ্যাগুলোই এই যুক্তিকে সমর্থন করে। গ্রিসের প্রধান আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচি ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ প্রায় ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প, যার মাধ্যমে ইসরায়েলের তিনটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা একত্র করে বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনবিরোধী প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে এথেন্স ইসরায়েলের এলবিট সিস্টেমস থেকে নির্ভুল রকেট আর্টিলারি কেনার জন্য আরও প্রায় ৭৫ কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়। এই ব্যবস্থা তুরস্ক সীমান্তে মোতায়েন করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রিক যুদ্ধবিমানের চালকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ গ্রিসের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকম ডিফেন্স অধিগ্রহণ করার ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এখন দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তারা একে অপরের কমান্ড কাঠামোয় এমন সংখ্যায় কাজ করছেন যে এই সম্পর্ককে আর সাধারণ অংশীদারত্ব নয়, বরং একধরনের প্রাতিষ্ঠানিক একীভূতকরণ বলেই মনে হয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে গ্রিসের এই অগ্রযাত্রা বাস্তবে ইসরায়েলের আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী এজেন্ডাকেই সহায়তা করছে। গাজা যুদ্ধের পর ইসরায়েল কূটনৈতিকভাবে সংকুচিত, আইনগতভাবে চাপে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশে কার্যত অবাঞ্ছিত হয়ে উঠেছে।

তুরস্কের কৌশলগত পুনর্বিন্যাস

এই সমীকরণের অন্য অর্ধেক হলো তুরস্ক। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কই একমাত্র রাষ্ট্র, যার একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাশিল্প রয়েছে, গাজা যুদ্ধ চলাকালে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিগত অবস্থান নেওয়ার নজির রয়েছে এবং নিজস্ব অবস্থানকে সমর্থন করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত সক্ষমতা আছে। ২০১৭ সালের উপসাগরীয় সংকটের অবসানের পর থেকে জিসিসিভুক্ত দেশগুলো নীরবে আঙ্কারার দিকে তাদের কৌশলগত অবস্থান পুনর্বিন্যাস করেছে। এখন তারা তুরস্ককে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছে।

আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে—বিশেষ করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে—একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামো বা ‘স্থিতিশীলতার অক্ষ’ গড়ে তোলার তুরস্কের উদ্যোগ সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে গ্রিসের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই উদ্যোগ সফল হলে, তা আবারও গ্রিসের আঞ্চলিক পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিতে পারে। তাই এথেন্স শুধু পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ তুরস্ক যেখানে সক্রিয়, সেই সব ক্ষেত্রেও আঙ্কারার প্রভাব মোকাবিলা করতে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে নিজেদের জোটকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

ছয়পক্ষীয় জোট ও যৌথ বাহিনী

এ কারণে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গ্রিস, সাইপ্রাস ও ভারতকে ইসরায়েলের প্রস্তাবিত একটি ‘ছয়পক্ষীয় জোট’-এর অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই জোটের উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরকে ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন সমন্বয়ের মোকাবিলা করা। গত ডিসেম্বরে জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত ১০ম ইসরায়েল-গ্রিস-সাইপ্রাস শীর্ষ সম্মেলনে তিন দেশের নেতারা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। এর কয়েক দিন আগে গ্রিক ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে তিন দেশ মিলে ২ হাজার ৫০০ সদস্যের একটি যৌথ দ্রুত সাড়া দেওয়ার বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করছে। এতে ইসরায়েল ও গ্রিস থেকে এক হাজার করে এবং সাইপ্রাস থেকে ৫০০ সেনা থাকবে; পাশাপাশি বিমান ও নৌবাহিনীর উপাদানও থাকবে। প্রকাশ্যেই এই বাহিনীকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ককে নিরুৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এই সময়ের মধ্যে গ্রিস জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে নিজেদের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি তারা জ্বালানি, অবকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পে গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘ইন্ডিয়া–মিডল ইস্ট–ইউরোপ ইকোনমিক করিডর’ (আইএমইসি) এবং একটি ফাইবার অপটিক ডেটা কেবল প্রকল্প। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আইএমইসি পরিকল্পনা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে তুরস্ক ও মিসরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল ও ভারতকে কেন্দ্র করে এই করিডর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব হয়ে গ্রিসের মাধ্যমে ইউরোপে পৌঁছানোর কথা, যা জিসিসি দেশগুলোকে ওই ‘ছয়পক্ষীয় জোট’-এর আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।

চুক্তির সূক্ষ্ম শর্ত ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বার্তা

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ শুরু হলে, গ্রিস দ্রুত জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর কাছে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়। গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস ডেনদিয়াস মার্চ ও এপ্রিল মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার সফর করেন। এরপর তিনি সৌদি আরবও সফর করেন। এই সফরগুলো এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হয়, যখন ওই যুদ্ধে গ্রিসের সামরিক স্থাপনাগুলো সেই হামলাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রসদ ও লজিস্টিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যেগুলোর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় বিভিন্ন রাজধানীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

যে দেশ নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য ইসরায়েলের ওপর নির্ভরশীল, সেই দেশ যদি আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে, তাহলে তা এমন কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, যা বাস্তবে তার নিজের হাতে নেই—যদি না প্রকৃতপক্ষে সে অন্য একটি রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও কৌশলগত এজেন্ডার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগই প্রস্তাব করে।

যখন একটি দেশ অন্য একটি দেশের অস্ত্রশিল্পের বড় ক্রেতায় পরিণত হয়, তার সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো ব্যবহার করে, সেই দেশের সামরিক মতবাদ গ্রহণ করে, কর্মকর্তাদের পারস্পরিকভাবে একীভূত করে এবং তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমন্বয় করে, তখন তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতিতেও সেই মিত্র দেশের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাদের গভীরভাবে একীভূত প্রতিরক্ষাকাঠামোর আচরণেই এটি স্পষ্ট। তথ্য, প্রবেশাধিকার এবং রাজনৈতিক প্রভাব তখন প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই দিকেই প্রবাহিত হতে শুরু করে। গ্রিসের কোনো দপ্তরে পৌঁছানো তথ্য যে শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। এ ছাড়া রিয়াদে যেসব কর্মকর্তা সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তাঁরাই আবার জেরুজালেমে গিয়ে এমন একটি জোটের ঘোষণা দেন, যার পরিচয়ের একটি বড় অংশ নির্ধারিত হয়—কাদের বিরুদ্ধে এই জোট অবস্থান নেবে, তার ভিত্তিতে।

যে এথেন্স তুরস্ককে ঠেকাতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিনছে, সেই একই এথেন্সকে এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় সহায়তা করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ এই বৈপরীত্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পরবর্তী দফার কূটনৈতিক করমর্দনের আগে উপসাগরীয় অঞ্চলের নীতিনির্ধারকদের এই সূক্ষ্ম শর্তগুলো ভালোভাবে পড়ে দেখা উচিত। যখন গ্রিস, ইসরায়েল ও সাইপ্রাসের নেতারা তাঁদের জোটকে সংজ্ঞায়িত করেন এই বলে যে, এটি কাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে—আর সেই লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রটি যদি হয় সেই দেশ, যার দিকেই এখন উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ক্রমে ঝুঁকছে—তখন একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে, যার উত্তর যেন প্রশ্নের মধ্যেই নিহিত। এই চিত্রে উপসাগরীয় অঞ্চল আসলে কোথায় অবস্থান করছে? আর সেই চিত্রটি তাদের বৈঠককক্ষ পর্যন্ত বহন করে নিয়ে যাচ্ছে কে?

আলী বাকির সহকারী অধ্যাপক, ইবনে খালদুন সেন্টার ফর হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস। মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত এবং কিছুটা সংক্ষেপিত।