বিশ্বের রাজনৈতিক আকাশে প্রতিদিনই নতুন মেঘ জমছে, নতুন ঝড় উঠছে। বৈশ্বিক নীতি-নির্ধারণের নীরব সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতির জটিল খেলা, কূটনীতির অদৃশ্য সুতো, সংঘাতের আগুন এবং প্রতিরক্ষা খাতের নীরব প্রস্তুতি— সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অবিরাম পরিবর্তন চলছে। এই পরিবর্তনের প্রতিটি দৃশ্য আজকের বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলছে, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। ১১ মে (সোমবার) বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর কয়েকটি পাঠকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপে নাকাল মানুষেরা; ইরানের জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প; বিয়েতে এক বছর স্বর্ণ না কেনার আহ্বান মোদির, কেন এই অনুরোধ; আমিরাত কেন গণহারে পাকিস্তানি শ্রমিকদের ফেরত পাঠাচ্ছে; ট্রাম্পের ইরানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা; ট্রাম্প-শি বৈঠকে কি কাটবে ইরান যুদ্ধের অচলাবস্থা- এই খবরগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলোর এই সংকলন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপে নাকাল মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইরান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ পরিবারগুলো তীব্র খাদ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আর ঠিক এমন সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে। রবিবার (১০ মে) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে জোর দেন।
ইরানের জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প
চলমান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। তবে, তেহরানের এই জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইরানের প্রতিক্রিয়ার কোনও বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এই জবাব পাঠানো হয়েছে পাকিস্তানের মাধ্যমে যারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
বিয়েতে এক বছর স্বর্ণ না কেনার আহ্বান মোদির, কেন এই অনুরোধ
ভারতীয়দের বিয়ে মানেই স্বর্ণের গয়নার ধুম। কিন্তু ঐতিহ্যে মিশে থাকা এই স্বর্ণ কেনা থেকেই এবার ভারতীয় পরিবারগুলোকে এক বছর বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আপাতদৃষ্টিতে এই আহ্বান অস্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক গভীর অর্থনৈতিক উদ্বেগ। মূলত বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট ও ডলারের বিপরীতে রুপির মান ধরে রাখতেই মোদির এই কৌশল।
আমিরাত কেন গণহারে পাকিস্তানি শ্রমিকদের ফেরত পাঠাচ্ছে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে গিয়ে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বড় ধরনের কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান। এই টানাপড়েনের জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ব্যাপক হারে পাকিস্তানি শ্রমিকদের বিতাড়ন শুরু হয়েছে, যা পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থান সংকটের হুমকি তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের ইরানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক দাবির অভিযোগ তুলেছে। এই অচলাবস্থার জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ট্রাম্প-শি বৈঠকে কি কাটবে ইরান যুদ্ধের অচলাবস্থা
দুই বিশ্বশক্তির শীর্ষ নেতাদের বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক বসছে বেইজিংয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই সপ্তাহে মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে তাদের এই আলোচনার ওপর বড় ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান সংকট। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে এই বৈঠকটি একবার পিছিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া ট্রাম্প। সস্তা তেলের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে শি’র সহায়তা চাইবেন তিনি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতায় জ্বালানি সরবরাহ ও পণ্য বিক্রিতে বাধা আসায় শি জিনপিংও চান যুদ্ধের অবসান হোক। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটের সমাধান করতে পারলে বিশ্বনেতা হিসেবে শি’র মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।



