তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ২৯ বছর বয়সি এস কীর্তনা। অভিনেতা থেকে জননেতা হওয়া থালাপতি বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত তামিলনাড়ু সরকারে সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। রোববার (১০ মে) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
সিবাকাসিতে ঐতিহাসিক জয়
তামিলগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে) দলের হয়ে সিবাকাসি নির্বাচনি আসন থেকে জয়লাভ করেন কীর্তনা। এই জয়টি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত সাত দশক ধরে এই আসনটি পুরুষ প্রার্থীদের দখলে ছিল। কীর্তনা সিবাকাসির প্রথম নারী বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে সেই প্রথা ভেঙে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক পটভূমি ও শিক্ষা
রাজনীতিতে নামার আগে কীর্তনা একজন ঝানু রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। এম কে স্ট্যালিনসহ অনেক প্রবীণ নেতার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। গণিতে স্নাতক ও পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই তরুণী প্রথম থেকেই তার তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন।
ভাষা প্রসঙ্গে কীর্তনার বক্তব্য
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ভাষা একটি স্পর্শকাতর বিষয় হলেও, নির্বাচনি জয়ের পর কীর্তনার সাবলীল হিন্দি বক্তব্য দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ভাষা কোনো দেয়াল নয়, বরং মানুষের সাথে সংযোগের সেতু। আমি চাই আমাদের নেতা বিজয়ের আদর্শ শুধু তামিলনাড়ুতে নয়, বরং সারা ভারতের মানুষের কাছে পৌঁছে যাক।
তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান
কীর্তনা মনে করেন, রাজনীতিকে ভয় না পেয়ে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের উচিত দেশ গঠনে সরাসরি অংশ নেওয়া। বাজি শিল্পের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সিবাকাসির শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কীর্তনাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় একটি আধুনিক, তরুণ ও প্রগতিশীল সরকারের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চেয়েছেন।



