জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। একসময় দেশের পতাকা বুকে ধারণ করে যিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্মান বাড়িয়েছেন, আজ তিনি অসহায় এক পিতা হয়ে সন্তানের জীবন বাঁচাতে সরকারের দ্বারস্থ হয়েছেন।
সরকারের কাছে আবেদন
দীর্ঘ ১১ বছর জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা কায়সার হামিদ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে কন্যা কারিনার সুচিকিৎসার জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
ক্রীড়া পরিবারের অবদান
পরিবারটির ক্রীড়াঙ্গনে রয়েছে অনন্য অবদান। কায়সার হামিদের পিতা মরহুম লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ হামিদ ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া সংগঠক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক সহসভাপতি এবং হ্যান্ডবল ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। মা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাবাড়ু ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত রানী হামিদ দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল নাম। পুরো পরিবার বাংলাদেশের ক্রীড়ার ইতিহাসে সম্মানের প্রতীক। সেই গৌরবময় পরিবারেই নেমে এসেছে গভীর দুর্দিন।
কারিনার শারীরিক অবস্থা
কায়সার হামিদের মেয়ে কারিনা দীর্ঘদিন ধরে জটিল লিভার রোগে আক্রান্ত। গত ২ মে থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করানো প্রয়োজন। চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রাথমিকভাবে প্রায় এক কোটি টাকার প্রয়োজন, যা পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব।
পরিবারের আবেদন
একসময় দেশের ফুটবল মাঠে অদম্য নেতৃত্ব দেওয়া কায়সার হামিদ আজ একজন ভেঙে পড়া পিতা। সন্তানের জীবন রক্ষায় তিনি সরকারের সহানুভূতি ও আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন। তার আবেদন শুধু একটি পরিবারের নয়, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক নিবেদিতপ্রাণ সৈনিকের আর্তনাদ, যিনি দেশের জন্য লড়েছেন। আজ লড়ছেন নিজের সন্তানের জীবনের জন্য।
প্রয়াত ফুটবলার বাদল রায়ের মেয়ে গাংগোত্রী রায় অস্ট্রেলিয়া থেকে মুঠোফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘দেশের ক্রীড়ায় অসামান্য অবদান রাখা এই পরিবারকে সহায়তা করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।’ কায়সার হামিদের ছোট ভাই সোহেল হামিদ বলেন, ‘সবার কাছে দোয়া চাই, মহান আল্লাহ যেন বাংলাদেশের ক্রীড়ার এই গর্বিত পরিবারের সন্তান কারিনাকে নতুন জীবন দান করেন।’



