সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্ব: ইতিহাস, তেল ও ক্ষমতার লড়াই
সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্ব: ইতিহাস, তেল ও ক্ষমতার লড়াই

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে বর্তমান তিক্ত বিরোধের শিকড় প্রোথিত রয়েছে ১৯৫০-এর দশকের বুরাইমি বিরোধে। সেদিন সৌদি আরব আল-নাহিয়ান পরিবারের এক যুবরাজকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল একটি তেলসমৃদ্ধ মরুদ্যানের নিয়ন্ত্রণ পেতে, কিন্তু তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করতে রাজি হননি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

প্রয়াত সাংবাদিক ডেভিড হোল্ডেন তাঁর ‘ফেয়ারওয়েল টু অ্যারাবিয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, সৌদিরা জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ানকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যিনি পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা হন। সৌদি আরব তখন সামরিক অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়। এই বিরোধ আজও দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে।

তেল ও ওপেক সংকট

চলতি মাসে আরব আমিরাত ওপেক থেকে বেরিয়ে গেছে এবং প্রতিদিন অতিরিক্ত লাখ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরব দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম ধরে রাখতে চায়, যেখানে আমিরাত দ্রুত মুনাফা করতে আগ্রহী। এই নীতিগত পার্থক্য দুই দেশের মধ্যে বড় ফাটল সৃষ্টি করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

ইয়েমেন, লিবিয়া ও সুদানের সংঘাতে দুই দেশ বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। আমিরাত বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে সমর্থন করে, অন্যদিকে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠিত সরকারের পক্ষে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে ইয়েমেনে আমিরাত-সমর্থিত গোষ্ঠীর ওপর সৌদি হামলা চালায়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমিরাত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহ দিচ্ছে, যা সৌদি আরবের জন্য উদ্বেগের কারণ।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যু

২০২০ সালে আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, যা সৌদি আরবের ২০০২ সালের শান্তি পরিকল্পনার বিপরীত। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের পর সৌদি জনমনে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব তীব্র হয়েছে, যা দুই দেশের দূরত্ব বাড়িয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক প্যাট্রিক থেরোস বলেন, মতাদর্শ, পরিবার ও ইতিহাস—এই তিনটি বিষয় সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্বের মূল কারণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বিরোধ মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং বিশ্বব্যাপী তেলের বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে।