ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে আল্লামা ইকবালের নাম। ইরানের নেতৃত্ব ট্রাম্পের হুমকিকে তোয়াক্কা না করে ইকবালের দর্শন থেকে শক্তি নিচ্ছে। ইরানি সাংবাদিকের ভাষায়, তাদের সমস্যা হলো ইকবাল।
ইরানের অনমনীয় অবস্থান
ইরান এখন ফেরাউনি তর্জন-গর্জনের মুখে দাঁড়িয়ে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না করলে ইরান ধ্বংস হবে। কিন্তু ইরানি নেতৃত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো হুমকি উপেক্ষা করছে। ইরানের সাফ কথা—আগে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নাও, তারপর আলোচনা; অন্যথায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নমনীয়তা আনতে পাকিস্তান চেষ্টা করছে। লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষকে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসানো। কিন্তু নৌ-অবরোধ বহাল রেখে মার্কিনিদের সঙ্গে বসতে অস্বীকার করেছে তেহরান। ফলে মার্কিন প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফর পিছিয়ে গেছে।
ইকবালের প্রভাব
এক মার্কিন সাংবাদিক ইরানি সাংবাদিককে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তাদের সমস্যা হলো ইকবাল। ইকবাল পাকিস্তানের জাতীয় কবি, যিনি ইরানে ইকবাল লাহোরি নামে পরিচিত। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইকবালের ওপর বই লিখেছেন। ইরানের বিপ্লবে ইকবালের কবিতা জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছিল।
লাহোরে ইকবালের মৃত্যুবার্ষিকীতে ইরানের কনসাল জেনারেল মেহরান মোয়াহেদ ফার বলেছেন, ইকবাল ইরানিদের যে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছেন, তা দিয়েই তারা আমেরিকাকে পরাজিত করেছে।
ট্রাম্পের জন্য বার্তা
ইকবাল ফারসিতে লিখেছিলেন: আল্লাহ ছাড়া মুসলমান অন্য কারও দাস নয়, কোনো ফেরাউনের সামনে তার মাথা নত হয় না। ট্রাম্পকে ফেরাউনি ভঙ্গি ছাড়তে হবে, হুমকি বন্ধ করতে হবে। ইরানি হোক বা পাকিস্তানি, খাঁটি মুসলমানদের জন্য দাম্ভিক শাসকের আনুগত্য কঠিন।
আসল কথা হলো, ইরানিরা ইকবালের চিন্তা দ্বারা অনুপ্রাণিত। আর ইকবালের চিন্তা মানেই ফেরাউন ও ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। ট্রাম্পের পক্ষে বোঝা কঠিন যে, হোসেনের (রা.) শাহাদাতই হলো ইয়াজিদের মৃত্যু। ইয়াজিদ জিতেও হেরে যায়।
সূত্র: জিও উর্দু ব্লগ



