বিশ্বের রাজনৈতিক আকাশে প্রতিদিনই নতুন মেঘ জমছে, নতুন ঝড় উঠছে। বৈশ্বিক নীতি-নির্ধারণের নীরব সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতির জটিল খেলা, কূটনীতির অদৃশ্য সুতো, সংঘাতের আগুন এবং প্রতিরক্ষা খাতের নীরব প্রস্তুতি— সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অবিরাম পরিবর্তন চলছে। এই পরিবর্তনের প্রতিটি দৃশ্য আজকের বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলছে, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। ২৬ এপ্রিল (রবিবার) বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর কয়েকটি পাঠকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে।
ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গেই চুক্তিতে প্রস্তুত ট্রাম্প, দিলেন শর্তও
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের সঙ্গেই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তিনি প্রস্তুত। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরান নীতিতে এক নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
'গুলির শব্দে' ডিনার ভণ্ডুল, সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে
যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজ চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দ হওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কায় দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত 'হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার'-এ এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠান চলাকালে আচমকা জোরে শব্দ শোনা যায়, যা অনেকের কাছে গুলির শব্দ বলে মনে হয়। এতে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জানায় যে শব্দটি একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়েছিল, কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি।
ইরানকে নিয়ে জটিল পরিস্থিতিতে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্য নিয়ে তাদের এই সফর বাতিলের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। একদিকে হোয়াইট হাউস চাইছে ইরানকে সমঝোতায় বাধ্য করতে। অন্যদিকে আলোচনার টেবিল থেকে বেরিয়ে আসার ফলে ট্রাম্পের সামনে এখন সমাধানের জন্য খুবই অল্প বিকল্প ও জটিল পথ খোলা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক কৌশলে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
জেন-জি: এক প্রজন্ম, দুই রূপ
'জেন-জি' বা জেনারেশন জেড, যাদের একসময় একটি অভিন্ন প্রজন্ম হিসেবে দেখা হতো, তারা এখন আর এক নেই। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মহামারির প্রভাবে এই প্রজন্ম কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গবেষক র্যাচেল জ্যানফাজা এই দুই উপ-প্রজন্মকে চিহ্নিত করেছেন 'জেন-জি ১.০' এবং 'জেন-জি ২.০' হিসেবে। জেন-জি ১.০ হলো সেইসব তরুণ যারা মহামারির আগে বড় হয়েছে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনুভব করেছে। অন্যদিকে জেন-জি ২.০ হলো মহামারির সময় কৈশোরে পা দেওয়া প্রজন্ম, যারা লকডাউন, অনলাইন শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে উঠেছে। এই বিভক্তি তাদের মূল্যবোধ, পেশাগত লক্ষ্য ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে স্পষ্ট প্রতিফলিত হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ: আমিরাতে আয়রন ডোম ও সেনা পাঠিয়েছে ইসরায়েল
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা পাঠিয়েছিল ইসরায়েল। ইরান-সংঘাতের সময় দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার এক নতুন উচ্চতার কথা উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে। এতদিন এই নজিরবিহীন সামরিক মোতায়েনের বিষয়টি গোপন ছিল। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে, যেখানে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও গভীর হতে পারে এবং আঞ্চলিক জোট গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



