মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিদেশিদের পরিচালিত সন্দেহভাজন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে মালয়েশিয়া অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)।
অভিযানের বিবরণ
রোববার পরিচালিত ‘অপস বেলাঞ্জা’ ও ‘অপস সেলেরা’ নামের এই অভিযানে কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল), কোম্পানি কমিশন মালয়েশিয়া (এসএসএম) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন) যৌথভাবে অংশ নেয়। অভিযানে মালুরি, পানতাই দালাম এবং সেগামবুত দালাম এলাকায় বিদেশিদের দ্বারা পরিচালিত বলে সন্দেহভাজন ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তল্লাশি করা হয়।
আটককৃতদের তথ্য
অভিযান সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মালুরি এলাকায় ১৭ জন বিদেশি পুরুষ, পানতাই দালামে ৫ জন এবং সেগামবুত দালামে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ এবং একজন নারী রয়েছেন। তারা বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক। অধিকাংশের বয়স ৪০ বছরের আশপাশে বলে জানা গেছে।
আইন লঙ্ঘনের ধরন
সূত্রটি আরও জানায়, স্থানীয় ব্যবসা কার্যক্রম বিদেশিদের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযানটি পর্যবেক্ষণকারী সরকারি সংবাদ সংস্থা বার্নামার এক প্রতিবেদক জানান, আটক হওয়া অধিকাংশ বিদেশি তাদের কর্মপারমিটের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। বিশেষ করে নির্মাণ খাতের জন্য ইস্যুকৃত কর্মপারমিটধারীদের অনেককে মুদি দোকান ও খাবারের দোকান পরিচালনা করতে দেখা গেছে।
অন্যান্য সংস্থার ব্যবস্থা
একই অভিযানে কোম্পানি কমিশন মালয়েশিয়া (এসএসএম) বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১৫টি নোটিশ জারি করেছে। এসব অনিয়মের মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত নাম ও কোম্পানির নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন না করা, সাইনবোর্ড না থাকা এবং ব্যবসার তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, কেপিডিএন কুয়ালালামপুর মূল্য নির্ধারণ এবং ওজন ও পরিমাপ সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ৬ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত অর্থদণ্ডসহ ১০টি কম্পাউন্ড জারি করেছে।
আইনগত ব্যবস্থা
আটককৃতদের কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৬(১)(সি) এবং ১৫(১)(সি) অনুযায়ী তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।



