আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দার মুখে ইসরায়েলের নতুন বসতি অনুমোদন
আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে ইসরায়েলের নতুন বসতি অনুমোদন

ইসরায়েল পশ্চিম তীরে আরও তিন হাজার বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে।

নতুন বসতি অনুমোদনের প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরব লীগসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই সিদ্ধান্ত দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শতাইয়েহ বলেছেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং এই বসতি নির্মাণ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ দখলদারিত্বের অংশ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বসতি সম্প্রসারণের প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ফিলিস্তিনি জনগণের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে। বসতিগুলির কারণে ফিলিস্তিনি কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, পানির উৎস দখল হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রশাসনের জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাইডেন প্রশাসন আগের ট্রাম্প প্রশাসনের তুলনায় বসতি ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশ্য বলেছেন, এই বসতি নির্মাণ ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিম তীর ইসরায়েলের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডের অংশ।

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। হেবরন শহরে বসতি বিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, দখলকৃত ভূখণ্ডে বসতি নির্মাণ অবৈধ। কিন্তু ইসরায়েল এই আইন মানতে অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবেও ইসরায়েলের বসতি কার্যক্রমের নিন্দা জানানো হয়েছে।

এই নতুন বসতি অনুমোদনের ফলে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা বলছে, ইসরায়েলের এই একতরফা পদক্ষেপ শান্তি আলোচনার ভিত্তি নষ্ট করছে।