লেবাননে ইসরায়েলের ১২০ বিমান হামলা, যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে
লেবাননে ইসরায়েলের ১২০ বিমান হামলা, যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে

লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে মঙ্গলবার ইসরায়েল ১২০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র বলছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাঁর সেনাবাহিনী লেবাননে অভিযান আরও জোরদার করছে। এই হামলার কারণে গত ১৬ এপ্রিল ঘোষণা করা সাময়িক যুদ্ধবিরতি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়ে আরেকটি আলাদা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

হামলার বিস্তারিত

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে মঙ্গলবার এসব হামলা চালানো হয়। দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি শহরে হামলায় এক নারী, শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের ৯০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বিউফোর্ট ক্যাসল এবং লেবাননের বৃহত্তম কারাউন বাঁধের কাছাকাছি এলাকায়ও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

নেতানিয়াহুর বিবৃতি

ইসরায়েলের উগ্র ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিশাল শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকা দখলে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। তিনি জানান, উত্তর ইসরায়েলের জনবসতিগুলোকে রক্ষা করতে লেবাননের ভেতরে একটি ‘নিরাপত্তাবলয়’ গড়ে তোলা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রগতি

দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ইসরায়েলি সেনারা কথিত ‘ইয়েলো লাইন’ পেরিয়ে দক্ষিণ লেবাননের আরও গভীরে অভিযান বিস্তৃত করেছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা দক্ষিণ লেবাননের জাওতার আল-শারকিয়া শহরের দিকে এগিয়ে আসা ইসরায়েলি বাহিনী ও ট্যাংকের ওপর ড্রোন, রকেট ও কামান দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হতাহতের পরিসংখ্যান

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া ইসরায়েলের বেপরোয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ২১৩ জন নিহত ও ৯ হাজার ৭৩৭ জন আহত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গত ১৬ এপ্রিলের সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় অন্তত ৬০৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে তাদের অন্তত ১০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জনই হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় মারা গেছেন।