যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। শনিবার (১০ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখন একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। গালিবাফ বলেন, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সৎ নয়। ইরান কখনো তার জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
পাকিস্তানের ভূমিকা
আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় একটি চূড়ান্ত সমঝোতার পথে ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ অগ্রগতি হয়েছে। আসিম মুনির বৈঠক শেষে পাকিস্তানে ফিরেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
ভারত সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এমনকি আমি যখন এখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, তখনো কিছু কাজ চলছে। আগামীকাল অথবা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের কিছু বলার থাকতে পারে, এমন একটি সম্ভাবনা রয়েছে।’
ট্রাম্পের ফোনালাপ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার রাতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে ইরান প্রসঙ্গে ফোনালাপের কথা ছিল। তবে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিরোধ কমানোর প্রবণতা
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘বিরোধ কমার বিষয়ে একটি প্রবণতা দেখা গেছে। তবে কিছু বিষয় এখনো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করা প্রয়োজন। আগামী তিন বা চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
যুদ্ধের প্রভাব
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর তিন মাস পূর্ণ হতে চলেছে। যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের ৪০ দিনের মাথায় গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টার সরাসরি বৈঠক হয়, কিন্তু কোনো সমঝোতা হয়নি। এর পর থেকে দ্বিতীয় বৈঠকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
বর্তমান আলোচনার ভিত্তি
বর্তমানে ইরানের প্রস্তাবিত ১৪-দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা চলছে। ইরান এই ১৪ দফাকে আলোচনার প্রধান কাঠামো হিসেবে ধরে এগোচ্ছে। উভয় পক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছে।



