যুক্তরাষ্ট্র হাজারো 'কৌশল ও চাতুরী' খাটিয়েও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরুন্মুক্ত করতে পারেনি বলে দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির একটি সামরিক সূত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তেহরানের কাছে এমন কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যা তারা এখনো কোনো যুদ্ধে ব্যবহার করেনি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
আইআরজিসির বিবৃতি
বুধবার (২০ মে) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপ-প্রধান বলেছেন, আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরির নির্দেশেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হয়েছে। আর ওয়াশিংটন এই পরিস্থিতি পালটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
আইআরজিসি-এর ওই কর্মকর্তা বলেন, 'আমেরিকানরা হাজারো চাল আর প্রতারণা করেও এটি (হরমুজ প্রণালি) পুনরায় চালু করতে পারেনি।' তিনি আরও বলেন, ইরানের সব সশস্ত্র বাহিনী এখন 'ট্রিগারে আঙুল রেখে' যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
অত্যাধুনিক অস্ত্রের হুঁশিয়ারি
এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সামরিক বা প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার দিক থেকে ইরানের কোনো ঘাটতি নেই। তারা এমন কিছু আধুনিক অস্ত্র তৈরি করেছে যা এখনো কোনো যুদ্ধে উন্মোচন করা হয়নি। আগামীতে যেকোনো ধরনের সংঘাতের মুখোমুখি হলে ইরান আর কোনো সংযম দেখাবে না বলেও সূত্রটি সতর্ক করেছে।
নতুন নজরদারি অঞ্চল ঘোষণা
এর আগে বুধবার সকালে ইরানের 'পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি' হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন নজরদারি অঞ্চল ঘোষণা করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই কৌশলগত জলপথের নির্ধারিত এলাকা দিয়ে চলাচলকারী সমস্ত জাহাজকে এখন থেকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ নতুন পদক্ষেপটি কৌশলগত জলপথের পূর্ব ও পশ্চিম উভয় প্রবেশদ্বারে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যবর্তী সামুদ্রিক রুটগুলোর ওপর কার্যকর হবে।
পটভূমি
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। এর জবাবে ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালায় এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইসলামাবাদে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ালেও এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে ইরানি বন্দরে আসা-যাওয়া করা সমস্ত জাহাজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল রেখেছেন।



