মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে ইরানকে আজ শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও পলিটিকো এ খবর জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব
জ্বালানি পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এ প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান খুবই কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কার্যত এখনো কৌশলগত এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে।
ইরানের দাবি ও আন্তর্জাতিক আইন
ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকা উচিত। এ প্রণালি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা নিয়ে গঠিত। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির ভেতর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি (ট্রানজিট চার্জ) আদায় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে তেহরান। যুদ্ধের আগে ইরান এমন কোনো ফি আদায় করত না। হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত হলেও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশ সাধারণভাবে এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে বা এর জন্য টোল বা মাশুল আদায় করতে পারে না।
সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলা
এ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে ইরানও এর জবাব দিয়েছে। মঙ্গলবারের পাল্টাপাল্টি হামলার পরদিন বুধবার ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক তৎপরতা
এ ছাড়া মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছাড়ও বাতিল করেছে। ওই ছাড়ের অধীনে তেহরান আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি ও সরবরাহ করার সুযোগ পেয়েছিল। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ ওমান সফরে গেছেন। এদিকে, কাতারের রাজধানী দোহা ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, গত মঙ্গলবারের ঘটনাবলির পর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা আরও জোরদার করার চেষ্টা করতে দেশটির একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করছে।



