যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবায় এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপী বিদ্যুৎ গোলযোগ দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) কিউবার বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন ইলেক্ট্রিকা দে কিউবা এ তথ্য জানিয়েছে।
চতুর্থ বিদ্যুৎ বিপর্যয়
গত সোমবারও দেশজুড়ে একই ধরনের বিদ্যুৎ গোলযোগ দেখা দেয়। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কিউবায় চারবার বিদ্যুৎ গোলযোগ ঘটল। এর আগে মার্চ মাসে আরও দুটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ গোলযোগ দেখা দেয়।
তবে রাষ্ট্রীয় তরফে বিদ্যুৎ গোলযোগের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কিউবা আধুনিক ইতিহাসের দীর্ঘতম বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। ১৯৬০-এর দশক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত কিউবার সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে রেখেছে।
ট্রাম্পের নীতি ও ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কমিউনিস্ট-শাসিত এই দ্বীপটিতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে আসছেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। মাদুরো একজন সমাজতান্ত্রিক নেতা এবং কিউবা সরকারের মিত্র।
কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মূলত ভেনেজুয়েলা থেকে আমদানি করা জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউবার বিদ্যুৎ গ্রিড অত্যন্ত পুরনো এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। তবে বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের অভাবকেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।
কিউবার কর্তৃপক্ষ এখনো বিদ্যুৎ গোলযোগের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকট আরও দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।



