যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবার ক্ষমতায় আসেন, তাহলে তার শুল্কনীতির কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতি কী বলছে
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি আমদানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে চান। এছাড়া চীনা পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথাও ভাবছেন তিনি। এই শুল্কনীতি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব বাণিজ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্ব বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাস্তবায়িত হলে এই বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডার মতো দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, 'ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে। এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকেই নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলবে।' তিনি আরও বলেন, 'এই নীতি বাস্তবায়িত হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ প্রভাব
ট্রাম্পের শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার কারণে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। এছাড়া অনেক কোম্পানি তাদের উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে দাম বাড়াতে বাধ্য হবে, যা ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
বিকল্প পথের সন্ধান
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও সহযোগিতামূলক পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। তারা মনে করেন, বাণিজ্য যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।



