ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ কোম নগরীতে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার সেখানে শোকমিছিলে অংশ নিতে লাখ লাখ শোকার্ত ইরানি ব্যানার-পোস্টার ও পতাকা হাতে সমবেত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত এই শহরে খামেনির মরদেহ বহনকারী একটি হেলিকপ্টার অবতরণ করছে।
তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের জানাজা
এর আগে রাজধানী তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো খামেনির জানাজা ও বিদায় মিছিলে বিপুলসংখ্যক ইরানি অংশ নেন। তেহরানের প্রধান সড়কগুলোতেও মানুষের ঢল নামে। খামেনিকে বিদায় জানাতে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে সমবেত হন ইরানিরা। এর আগে ১৯৮৯ সালে খামেনির পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় এত বড় লোকসমাগম হয়।
শোকগ্রস্তদের বক্তব্য
হামিদ নামের এক ব্যক্তি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ছিল, ইরানকে বিভক্ত করা। কিন্তু আমাদের নেতা সেই বিভাজন রুখে দিয়েছেন। ইরানবাসী তাঁর এ অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এখানে এসেছেন।’
মারজিয়াহ নামের আরেক শোকগ্রস্ত নারী বলেন, তিনি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে আমাদের শহীদ নেতাকে বলতে এসেছি যে তাঁর রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা তাঁর প্রতি আমাদের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করতে এখানে এসেছি।’
মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি
জানাজা ও শেষবিদায়ের অনুষ্ঠানে খামেনির অন্য তিন ছেলে উপস্থিত থাকলেও মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি। যুদ্ধের প্রথম দিন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোজতবা খামেনিকে একবারও জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বাবা ও স্ত্রীর জানাজায় অংশ নিতেও আসেননি তিনি।
তেহরান ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ এসলামি বলেছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ না হওয়ায় মোজতবা তাঁর বাবার জানাজা ও বিদায় মিছিলে উপস্থিত হতে পারেননি। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত ভঙ্গুর একটি যুদ্ধবিরতি চলছে। বর্তমানে ইরানের যে নিরাপত্তাব্যবস্থা, তাতে মোজতবার পক্ষে জনসমক্ষে আসার কোনো সুযোগ নেই।
খামেনির দাফন মাশহাদে
আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে খামেনির জন্মশহরে তাঁকে দাফন করা হবে।



