বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মালয়েশিয়াকে দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে পদ্ধতিগত কারণে এখনই বা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা নেই। নিয়োগ পদ্ধতি চূড়ান্ত করে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরই শ্রমবাজার খুলতে পারে বলে দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ শ্রমবাজার
২০২৪ সালের ১ জুন থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বিদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে। সে সময় প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি। তবে মালয়েশিয়া সরকার প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে পুনরায় নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, যাদের মধ্যে এখনও প্রায় ৫ হাজার কর্মী মালয়েশিয়া যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
সীমিত আকারে খোলা বাজার
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখন সীমিত আকারে খোলা আছে। কৃষি, বৃক্ষরোপণ, খনি এবং নির্বাচিত পরিষেবা-শিল্প উপ-খাতে দীর্ঘমেয়াদে কোটা আবেদন চালু রাখা হয়েছে। তবে কনস্ট্রাকশন ও উৎপাদন খাতে বড় আকারে শ্রমিক যাওয়া বন্ধ রয়েছে।
আটকে পড়া কর্মীদের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়
গত বছরের ২১-২২ মে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মীর মধ্যে যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জনকে পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় বোয়েসেলকে। শুধু কনস্ট্রাকশন ও ট্যুরিজম খাতে কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে এই কর্মীদের যাওয়া শুরু হয়; এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার যেতে পেরেছেন। বাকিদের আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ দেবে মালয়েশিয়া সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, “আমাদের কিছু আটকে পড়া কর্মী ছিলেন, যারা বাংলাদেশ থেকে আসতে পারেননি। এই সংখ্যাটা ৮ হাজারের মতো, এর ভেতরে একটা বড় সংখ্যা বাংলাদেশ থেকে না আসতে পারলেও আজকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের পর— মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, যারা বাকি রয়েছেন ৫ হাজারের মতো কর্মী, তাদের জন্য এই ডিসেম্বর পর্যন্ত টাইম দেওয়া হচ্ছে। যেকোনও সেক্টরে এসে ওনারা কাজ করতে পারবেন।”
জটিলতা কোথায়
দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্র বলছে, মালয়েশিয়া নতুন একটি পদ্ধতিতে সব দেশ থেকেই কর্মী নিতে চায়, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ থাকবে। আগের এফডব্লিউসিএমএস প্ল্যাটফর্ম আর ব্যবহার করতে চায় না মালয়েশিয়া। তবে এই ব্যবস্থা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তাই কর্মী নেওয়ার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি মালয়েশিয়া সরকার।
২০২১ সালের সমঝোতা-চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে। ২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে চালু হয়, আবার ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ হয়। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে বাজার খুলতে সময় লেগেছিল তিন বছর। ২০২২ সালের আগস্টে আবারও বাংলাদেশি কর্মী যাওয়া শুরু হয়। ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে পুনরায় বন্ধ হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুক্তির পরপরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার নজির নেই। চুক্তি নবায়নের জন্য দুই দেশের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক করে শর্ত চূড়ান্ত করতে হবে।
উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, “আমরা এমওইউ যেটা শ্রমবাজারের জন্য রয়েছে, এটা নতুন করে রিনিউয়াল করবো। সেটির জন্য ইতোমধ্যে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। ... আজকে প্রধানমন্ত্রীসহ দুই দেশ যেহেতু একসঙ্গে বসেছেন, আমাদের শ্রম চুক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দুটো প্রক্রিয়া আরও অনেক বেশি বেগবান হবে।”
এর আগে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া বর্তমানে সব দেশের বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই রিভিউ শেষে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে।



