যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এই চুক্তির শর্ত ও ধারা দেশ দুটি প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ক্ষোভে ফুঁসছে ইসরাইল। এরই মধ্যে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এই চুক্তির ১২টি ধারা বা শর্ত প্রকাশ করেছে।
চুক্তির ১২টি শর্ত
- শত্রুতামূলক আচরণ বন্ধ: ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব জায়গায় সব ধরনের বৈরী বা শত্রুতামূলক আচরণ বন্ধ করবে।
- পরমাণু অস্ত্রের প্রতিশ্রুতি: ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা তা সংগ্রহ না করার ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
- ইউরেনিয়াম মজুত অপসারণ: ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে ফেলার বিষয়টি সমাধান করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একমত হয়েছে।
- ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আলোচনা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক চাহিদার বিষয়ে আলোচনা করবে।
- স্ট্যাটাস কু বজায় রাখা: যতদিন আলোচনা চলবে, ততদিন ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে বর্তমান পরিস্থিতি (স্ট্যাটাস কু) বজায় রাখবে।
- নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা: চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে নেবে, নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না এবং এই অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি আর বাড়াবে না।
- হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা: ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর বিনামূল্যে ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
- আটকে রাখা অর্থ ছাড়: এই সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়িত হওয়া মাত্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আটকে রাখা ইরানি অর্থ বা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
- সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা বাতিল: যদি একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেবে এবং ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করবে।
- পুনর্গঠন তহবিল: যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তির মধ্যে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- তেল বিক্রির অনুমতি: আলোচনা চলাকালীন ইরান যাতে তেল বিক্রি করতে পারে, সেজন্য ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে তেহরানকে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখবে (বা পাসের ব্যবস্থা করবে)।
- নৌ-আলোচনা: নৌ-চলাচল এবং সামুদ্রিক সেবার নিয়মকানুন ঠিক করতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উপস্থিতিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: চ্যানেল-১২, ইরান ইন্টারন্যাশনাল


