মঙ্গলবার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে নরওয়ে। ২৬ বছর পর কোনও বড় টুর্নামেন্টে খেলতে নেমে এরলিং হাল্যান্ড তার প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন।
ম্যাচের বিবরণ
বস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২৯তম মিনিটে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে নরওয়েকে এগিয়ে নেন হাল্যান্ড। তবে আইমেন হুসেইনের হেডে সমতা আনে ইরাক। বিরতির আগেই ইরাকের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে আবার নরওয়েকে এগিয়ে নেন হাল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৫১ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা এখন ৫৭।
বদলি হিসেবে মাঠে নামার পরপরই লিও ওস্টিগার্ড হেডে তৃতীয় গোল করেন। যোগ করা সময়ে হুসেইনের আত্মঘাতী গোলে চতুর্থ গোল পায় নরওয়ে। এই জয়ে গ্রুপ আই-এ গোল ব্যবধানে শীর্ষে নরওয়ে। ফ্রান্সও সেনেগালকে ৩-১ হারিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে সমান। নরওয়ে আগামী ২২ জুন নিউ জার্সিতে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।
ইরাকের কঠিন পথ
বিশ্বকাপে ওঠার পথে সবচেয়ে দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা ছিল ইরাকের। ৮৬৭ দিনের ২১ ম্যাচের বাছাইপর্ব শেষে ৪৮তম ও শেষ দল হিসেবে তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। প্লে-অফে বলিভিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা হুসেইনকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ১৯৮৬ সালের পর এটাই ইরাকের প্রথম বিশ্বকাপ।
নরওয়ের স্বর্ণালী প্রজন্ম
নরওয়ে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে খেলেছিল। সেবার গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে হারিয়ে তারা চমক দেখিয়েছিল। বর্তমান কোচ স্টলে সোলবাকেন তখন দলের সদস্য ছিলেন। বাছাইপর্বে ইতালিকে দুবার হারিয়ে অনায়াসে বিশ্বকাপে ওঠে নরওয়ে। হাল্যান্ড ও আর্সেনালের মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বে এই স্বর্ণালী প্রজন্ম উত্তর আমেরিকায় নতুন ইতিহাস গড়তে চায়।
সোলবাকেন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন হাল্যান্ড তার প্রথম বড় টুর্নামেন্টে 'বড় প্রভাব' ফেলবেন। সিটি তারকা সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুত পূরণ করেছেন। আন্তোনিও নুসার কৌশলে ইরাকের রক্ষণ ভেঙে দাভিদ মোলার উলফের ক্রস থেকে হাল্যান্ড প্রথম গোল করেন। ১০ মিনিট পর আমির আল-আম্মারির ক্রস থেকে হুসেইনের জোরালো হেডে সমতা ফেরায় ইরাক।
তবে ইরাক নিজেদের ভুলে দ্বিতীয় গোল উপহার দেয়। গোলরক্ষক জালাল হাসানের ধীর প্রতিক্রিয়ায় হাল্যান্ডের পায়ে লেগে বল জালে যায়। ইরাক আবারও ভালো প্রতিক্রিয়া দেখায়। ইব্রাহিম বায়েশের শট ব্লক হয়, আলি আল-হামাদি শট মিস করেন, আকাম হাশিমের ভলি ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। ৭৬তম মিনিটে ওডেগার্ডের কর্নার থেকে ওস্টিগার্ডের হেডে জয় নিশ্চিত হয়। শেষ পর্যন্ত হাল্যান্ডের লুপিং হেড হুসেইনের গায়ে লেগে চতুর্থ গোল হয়।



