ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিনকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই সেই স্থানে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি নিহত হয়েছিলেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে খামেনির কফিন জনসমক্ষে আনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)।
হত্যার ঘটনা ও স্থান
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নিজ বাসভবন প্রাঙ্গণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি হয়েছিল জোমহুরি স্ট্রিটে। পরে শোকাহত মানুষের জন্য ওই স্থানে ‘রাভাঘ কেশভারদোস্ত’ নামে একটি অস্থায়ী প্রার্থনা স্থান তৈরি করে ইরান।
ধর্মীয় তাৎপর্য
মরদেহ মৃত্যুর স্থানে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনও ধর্মীয় নিয়ম না থাকলেও, ইরানের এই পদক্ষেপটি শাহাদাত ও স্মরণের গভীর ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইরান মনে করে খামেনি দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে তার হত্যাকারী হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটিতে তাকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে শিয়া মুসলিমদের কাছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন দ্বাদশী শিয়া ইসলামে সর্বোচ্চ ধর্মীয় মর্যাদা ‘মারজা-ই তাকলিদ’।
দাফনের সময়সূচি
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ৪ জুলাই। ৪ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত তার কফিন তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর তার নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, ইমাম রেজা মাজারে তাকে সমাহিত করা হবে।
জনসমাগমের প্রত্যাশা
১৯৮৯ সালের ১১ জুন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষ বিদায়ে আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এবার এর চেয়েও বেশি মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।



