ভারতের পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু
প্রায় দুই বছর পর ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা চালু করেছে, যা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য স্বস্তি এনেছে এবং কলকাতার ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লাস সৃষ্টি করেছে, যারা বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। রবিবার থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পর্যটন ভিসার জন্য অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত থাকার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ সেবা পুনরুদ্ধার করেছে।
উদযাপন ও প্রস্তুতি
এই সিদ্ধান্ত কলকাতায়ও স্বাগত জানানো হয়েছে, যেখানে নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি পর্যটকদের ফিরে আসায় মিষ্টি বিতরণ করে উদযাপন করেছেন। শহরের ব্যবসায়ী সমিতিগুলো সভা করে সেবার মান উন্নয়ন ও বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নত করা এবং আরও পর্যটক-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।
ব্যবসায়িক প্রভাব
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পর্যটন ভিসা স্থগিত হওয়ায় নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সাদার স্ট্রিট ও লিন্ডসে স্ট্রিটের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক দোকান মালিকের বিক্রি তীব্রভাবে কমে যায়, কেউ কেউ ঋণ নিতে বাধ্য হন বা ব্যবসা বন্ধ করে দেন।
মার্কুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোটোষ সাহা বলেন, গত দুই বছর অত্যন্ত কঠিন ছিল এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশি পর্যটকদের ফিরে আসা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করবে।
গ্রিন লাইন পরিবহনের মালিক সঞ্জয় মজুমদার বলেন, পরিবহন অপারেটররা শুধুমাত্র মেডিকেল ভিসার যাত্রীদের উপর নির্ভর করে টিকে থাকতে লড়াই করেছে এবং পর্যটন ভ্রমণ পুনরায় শুরু হলে স্বাভাবিক ব্যবসা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন।
কটন গ্যালারির মালিক কামরুদ্দিন মালিক বলেন, নিউ মার্কেটে গত দুই বছরে ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। গ্লোব ফার্মাসির কর্মচারী কুসুম বলেন, বাংলাদেশি দর্শনার্থীরা নিয়মিত ওষুধ, প্রসাধনী ও অন্যান্য পণ্য ক্রেতা, এবং তাদের ফিরে আসা স্থানীয় ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য উত্সাহ দেবে।
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটক, রোগী ও ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজতর হবে এবং কলকাতার পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



