সিন্ধু নদের পানিবণ্টন নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। নিজেদের ‘ন্যায্য হিস্যা’ আদায়ে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এর আগে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, চুক্তির বিষয়ে প্রয়োজন হলে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পথেও যেতে প্রস্তুত ইসলামাবাদ।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোর কমান্ডার সম্মেলনে সিদ্ধান্ত
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, মঙ্গলবার পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে—সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২৭৬তম কোর কমান্ডারস সম্মেলনে সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির অধিকার রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও জনগণের আকাঙ্খা অনুযায়ী পাকিস্তানের পানির ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই বৈঠকে গত বছরের ২৪ এপ্রিল গৃহীত পাকিস্তানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির (এনএসসি) বিশেষ নির্দেশনার আলোকে কৌশলগত প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হয়। পাকিস্তানের এনএসসি তাদের নীতিমালায় ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার যে কোনো চেষ্টাকে সরাসরি ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসাবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই উচ্চপর্যায়ের ফোরামে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশ এবং সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির ওপর সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
পেহেলগাম হামলার জেরে চুক্তি স্থগিত
গত বছর পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর এ ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। তারা ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। সম্প্রতি এক জনসভায় বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, ভারত সিন্ধু নদের পানিকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। প্রয়োজন হলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেও পাকিস্তান প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের সমর্থন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত থাকবে।
চুক্তির ইতিহাস ও পাকিস্তানের কৃষির জন্য গুরুত্ব
বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার ভারতের এবং সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত হয়। পাকিস্তানের কৃষি ব্যবস্থা এ নদীগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির মোট কৃষিজমির প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সেচব্যবস্থা সিন্ধু নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। ফলে চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর দেশটির পানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।



