ইরানি তেল কেনায় ভারতের ইউয়ান লেনদেন: ডলারের বদলে চীনা মুদ্রায় অর্থপ্রদান
ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো ইরান থেকে কেনা জ্বালানি তেলের মূল্য চীনের মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করছে। এই লেনদেন ভারতের আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে বলে চারটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও ভারতের তেল কেনার পদক্ষেপ
ইরান ও রাশিয়ার জ্বালানি তেল সমুদ্রে কেনাবেচার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের এই ঘোষণা ইরান যুদ্ধের জেরে বেড়ে যাওয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্দেশ্যে করা হয়। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ইরানি তেল কেনার খবর সামনে এসেছে, যা চীনা মুদ্রা ইউয়ানের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই মাসের শুরুতে ভারতের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন প্রায় ৯ বছর পর প্রথমবারের মতো ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। এই চালানের তেলের মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার, যা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে।
লেনদেন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান
এ ছাড়া আরেক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ-এর জন্য ইরানি তেল বহনকারী চারটি জাহাজ সম্প্রতি ভারতের বন্দরে ভিড়তে দিয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে এমটি ফেলিসিটি নামের একটি জাহাজ ইতিমধ্যে তেল খালাসও করেছে।
সূত্র অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ও রিলায়েন্স—দুই প্রতিষ্ঠানই আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে ইউয়ানে ইরানের তেলের মূল্য পরিশোধ করে। ব্যাংকটি তাদের সাংহাই শাখার মাধ্যমে তেলের দাম পাঠাচ্ছে বিক্রেতাদের কাছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে একটি নতুন প্রবণতা নির্দেশ করে।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিষয়টি নিয়ে জানতে আইসিআইসিআই ব্যাংক, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও সাড়া পায়নি রয়টার্স। তেহরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ধরনের তেলের মূল্য পরিশোধে জটিলতা থাকায় অনেক ক্রেতা আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধের জেরে তেলের মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে ইরানি তেল সমুদ্রে কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। অর্থাৎ ইরানের তেল কেনায় এই ছাড় আজ রোববার শেষ হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভারতের তেল আমদানির কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভারতের অবস্থান ও মুদ্রা লেনদেনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



