মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে চরম বৃদ্ধি
ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেলের দামে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব তেল বাজারে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে, যার ফলে জানুয়ারি মাস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তেলের দাম প্রায় ৪২% পর্যন্ত বেড়ে গেছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) দুপুর ৩টার দিকে লাইভ মার্কেট ডেটায় ওয়েস্ট টেক্সাস ইনটারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯২.৬২ ডলারে উঠেছে। রোববার (৮ মার্চ) এই দাম আরও বেড়ে ৯৩.৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৩ ডলার বেশি।
ব্রেন্ট ক্রুড ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দামেও ঊর্ধ্বগতি
বিশ্ববাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দামও দ্রুতগতিতে বাড়ছে। মুরবান ক্রুড তেলের দাম ১০২.২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা শুক্রবারেই ৬.০৪ ডলার বা ৬.৩৯% বৃদ্ধি পেয়েছিল। এছাড়াও, প্রাকৃতিক গ্যাসের দামেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ন্যাচারাল গ্যাসের দাম বর্তমানে ৩.১১৬ ডলারে উঠেছে, যা আগের ৩.০৯১ ডলার থেকে কিছুটা বেশি।
জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির পরিসংখ্যান
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ছিল ৬৪-৬৭ ডলার প্রতি ব্যারেল। মার্চ মাসের শুরুতে এই দাম প্রায় ৯২ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, জানুয়ারির তুলনায় তেলের দাম প্রায় ২৭ ডলার বেড়েছে, যা মোটামুটি ৪০-৪২% বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ: হরমুজ প্রণালী বন্ধ
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এএফপি’র বিশ্লেষণ করা ম্যারিনট্রাফিকের ডেটা অনুযায়ী, সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৯টি তেল ট্যাঙ্কার, কার্গো ও কনটেইনার জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে, যাদের কিছু জাহাজ নিজেদের অবস্থান গোপন করেছিল। রোববার তিনটি জাহাজে হামলার পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০% এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০% সাধারণত এই প্রণালী দিয়েই পরিবহন করা হয়। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা তেলের ট্যাংকার ঘটনাপ্রবাহকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
