ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতির সংকট: তেলের দাম ৩০% বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে ধস
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতির সংকট, তেলের দাম ৩০% বৃদ্ধি

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে বিশ্ব অর্থনীতির উপর মারাত্মক প্রভাব

ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি করেছে। বিশেষ করে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দামে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) মাত্র একদিনেই বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ছাড়িয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি ও পরিবহন খাতের টালমাটাল অবস্থা

মূলত, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন-ইসরায়েল হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিশোধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহন খাত টালমাটাল হয়ে পড়েছে। সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারেও পড়েছে। বিশ্বজুড়ে মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াত করে, যা যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই সরবরাহ সংকটের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

শেয়ারবাজারে ধস ও তেলের বাজারে উল্লম্ফন

এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন দেখা গেছে। বিপরীতে তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে বড় উল্লম্ফন। মার্কিন ক্রুড তেলের দাম ১৯ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৮০ ডলারে। জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া মূল্যে বিশ্বজুড়েই নতুন করে দেখা দিয়েছে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় মান হারিয়েছে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড।

বিশ্লেষকদের মতামত ও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে এই যুদ্ধ কেবল ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত নয়, এটি সারা বিশ্বের অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। জ্বালানি খরচের উর্ধ্বগতি এবং শেয়ারবাজারে পতন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই তৈরি করেছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতির উপর আরও গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।