ট্রাম্পের ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর হতে পারে চলতি সপ্তাহেই
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর হতে পারে। বুধবার সিএনবিসি-র এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে ১০ শতাংশ হারে থাকা এই শুল্ক খুব শীঘ্রই নির্ধারিত ১৫ শতাংশে উন্নীত হবে।
আদালতের রায় এবং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
গত বছর ট্রাম্প একতরফাভাবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়। আদালত গত ২০ ফেব্রুয়ারি ৬-৩ ভোটের রায়ে জানায়, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া 'ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট' (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপ করতে পারেন না।
আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প ভিন্ন একটি আইনের অধীনে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেন এবং পরদিন তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন। তবে বাস্তবে তা কার্যকর হওয়ার সময় ১০ শতাংশই ছিল। এই অসংগতি দূর করে চলতি সপ্তাহেই শুল্কের হার ১৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বেসেন্ট।
আইনি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট উল্লেখ করেন, 'ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪'-এর ১২২ ধারা অনুযায়ী আরোপিত এই শুল্ক কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১৫০ দিন স্থায়ী হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং কমার্স ডিপার্টমেন্ট প্রয়োজনীয় সমীক্ষা শেষ করবে, যা ভবিষ্যতে আরও শুল্ক আরোপের পথ প্রশস্ত করবে।
বেসেন্ট বলেন, "আমার বিশ্বাস পাঁচ মাসের মধ্যে শুল্কের হার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। এই প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হলেও আইনিভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী।" তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী আগস্টের মধ্যে মার্কিন শুল্কের হার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বৈশ্বিক শুল্ক বৃদ্ধির এই পদক্ষেপটি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
