ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে এখনো চিন্তা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
ইরান যুদ্ধে হরমুজ বন্ধ, বাংলাদেশের জ্বালানিতে চিন্তা নেই

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলেও আজ সোমবার (২ মার্চ) পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দুই-চারদিনের মধ্যে এই সংঘাতের সমাধান ঘটলে বাংলাদেশের জন্য আশঙ্কার কিছু নেই।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা

সোমবার সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে আজকের দিনে, এই মুহূর্তে আমাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমরা দেখছি, পরিস্থিতি কোনদিকে যায়।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সরবরাহ চেইনে কোনো বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব

বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীণ ঘুরে আসতে হয়। এই পরিবর্তিত রুটের ফলে:

  • জাহাজ ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়
  • যার প্রভাবে সব পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়
  • বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য এখনও তৈরি হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় শীঘ্রই এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ

যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তবুও বাণিজ্যমন্ত্রী সতর্ক করেছেন যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত হলে বাংলাদেশকে নিম্নলিখিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে:

  1. জ্বালানি আমদানির খরচ বৃদ্ধি
  2. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি
  3. বাণিজ্যিক পরিবহনে বিলম্ব

তিনি সরকারের প্রস্তুতি ও নজরদারির কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম। এই সাক্ষাৎকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়।