যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্যারিফ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সতর্ক নজর
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্যারিফ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের কাছে নতুন করে কোনো চিঠি না এলেও সরকার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
ট্যারিফ চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও আদালতের রায়
বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত ট্যারিফ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছু জটিল প্রক্রিয়া অবশিষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, "ট্যারিফের বিষয়টি এখনও বিকাশমান অবস্থায় আছে। যে আলোকে মূল চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের ফলে সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।"
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ট্যারিফ সংক্রান্ত একটি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট হয়েছে, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্বে দেশভিত্তিকভাবে ১৯ শতাংশ ট্যারিফ প্রযোজ্য ছিল, কিন্তু বর্তমানে সমস্ত দেশের জন্য এই হার ১০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের বাজার পরিস্থিতি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার বিদেশ থেকে কিছু অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে লেবুর দাম উল্লেখ করেন: "রমজানের শুরুর দিকে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও মাত্র তিন দিনের মধ্যে সরকারি হস্তক্ষেপে এর মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।"
টিসিবির ট্রাক ঘটনা ও চাঁদাবাজি বন্ধের অঙ্গীকার
টিসিবির ট্রাক সম্পর্কিত দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "এ ধরনের ঘটনা কখনই ঘটা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সকলকে এই বিষয়ে অধিকতর সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।"
এছাড়াও, চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, "আমরা কেবলমাত্র আশ্বাস দিচ্ছি না, বরং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবে রূপদান করব।" এই মর্মে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সর্বোপরি, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবর্তনগুলোর প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে, পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীলতা ও নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
