সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি অব্যাহত
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করার পরও তিনি বিদেশি দেশগুলোর জন্য নতুন শুল্ক হুমকি দিয়েছেন। সোমবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যেসব দেশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে 'খেলা' করতে চাইবে, তাদের জন্য আরও কঠোর শুল্ক অপেক্ষা করছে।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়
গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের মতে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপ করার সময় ট্রাম্প তার কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই রায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক এজেন্ডার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে শুল্ক এবং দ্রুত তা আরোপ করার ক্ষমতা ছিল একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য।
নতুন শুল্ক নির্ধারণের প্রক্রিয়া
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প একটি পৃথক আইনের অধীনে গিয়ে নতুন শুল্ক নির্ধারণের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এই আদেশ অনুযায়ী আমদানির উপর ১০৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে ট্রাম্প এই শুল্কের হার ১৫৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বিভাগ রবিবার দেরিতে একটি নোটিশ জারি করে জানিয়েছে, আদালতের রায়ে বাতিল হওয়া শুল্ক সংগ্রহ করা মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমিসন গ্রিয়ার সপ্তাহান্তে বলেছেন, তিনি আশা করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদাররা ওয়াশিংটনের সাথে করা শুল্ক চুক্তিগুলো মেনে চলবে।
ট্রাম্পের দাবি ও প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি পৃথক পোস্টে দাবি করেছেন, 'প্রেসিডেন্ট হিসেবে শুল্ক অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসের কাছে ফিরে যাওয়ার আমার কোনো প্রয়োজন নেই।' তিনি আরও দাবি করেছেন যে আদালতের রায় তাকে 'আরও বেশি ক্ষমতা ও শক্তি' দিয়েছে এবং তিনি বিদেশি দেশগুলোর বিরুদ্ধে 'ভয়ানক' ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লাইসেন্স ব্যবহার করতে পারেন।
ট্রাম্পের এই হুমকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাদের জন্য এই সতর্কবার্তা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও ট্রাম্পের এই অবস্থান বৈশ্বিক বাণিজ্য সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
