ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জুলাই চুক্তি স্থগিত করছে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গত জুলাই মাসে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির নানা বিষয়ের ওপর আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায়। গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইইউর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, যা ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
শুল্ক নীতির প্রভাব ও ইইউর প্রতিক্রিয়া
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর, ট্রাম্প সামগ্রিক ১০ শতাংশ শুল্ককে ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি করেন। এই পদক্ষেপের পরেই রবিবার ইইউর পক্ষ থেকে চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ইইউর হয়ে আলোচনা করছেন জেলজোনা জোভকো, যিনি ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, "ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আর কোনো পথ নেই। পরিস্থিতির স্পষ্ট ধারণা পেতে সমঝোতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।"
আইনি প্রক্রিয়া ও জরুরি বৈঠক
ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল সোমবার ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এই সমঝোতা অনুমোদনের আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান একটি জরুরিকালীন বৈঠক ডেকেছেন, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতদের উপস্থিত থাকার কথা। এই বৈঠকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ইইউ কী করবে, তা নিয়ে ইউরোপীয় কমিশন ওয়াশিংটনের কাছে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা দাবি করেছে। কমিশন জানিয়েছে, ইইউর ব্যবসায়ীদের আইনি স্বচ্ছতা এবং বাজারের অনুমানযোগ্যতা জানার অধিকার আছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সামঞ্জস্য বজায় থাকছে না।
চুক্তির ভবিষ্যৎ ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ইউরোপীয় কমিশন মনে করে, আমেরিকার সাথে যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে দুই পক্ষই লাভবান হতে পারত। তবে, চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। এই স্থগিতাদেশ ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
