মার্কিন কাস্টমস ট্রাম্পের আইইইপিএ শুল্ক আদায় বন্ধ করছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে আরোপিত আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) অনুযায়ী শুল্ক আদায় বন্ধ করে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইএসটি) থেকে এই শুল্ক আদায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিলম্বিত সিদ্ধান্ত
সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক আইইইপিএ শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার তিন দিনেরও বেশি সময় পর সিবিপি এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি কার্গো সিস্টেম মেসেজিং সার্ভিসে (সিএসএমএস) জাহাজ ও আমদানিকারকদের জন্য পাঠানো বার্তায় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের আইইইপিএ–সংক্রান্ত সব শুল্ক কোড নিষ্ক্রিয় করা হবে।
জরুরি আইনে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পরও তিনি থেমে যাননি। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর ট্রাম্প প্রথমে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, তবে ভিন্ন আইনের অধীনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুল্ক আদায় বন্ধের প্রভাব ও ফেরতের সম্ভাবনা
সিবিপি কেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েক দিন পরও বন্দরে শুল্ক আদায় চালিয়ে যাচ্ছিল, তার কোনো কারণ উল্লেখ করেনি। এছাড়া, এই সময়ের মধ্যে আদায়কৃত শুল্ক আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা–ও এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
সংস্থাটির বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, আইইইপিএ শুল্ক আদায় বন্ধের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের আরোপিত অন্যান্য শুল্কে প্রভাব ফেলবে না। এর মধ্যে রয়েছে ২৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা শুল্ক এবং ৩০১ ধারা অনুযায়ী অন্যায় বাণিজ্য শুল্ক।
সিবিপি আরও জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে বণিক সম্প্রদায়কে অতিরিক্ত নির্দেশিকা প্রদান করা হবে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও গবেষণার তথ্য
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কারণে আইইইপিএ শুল্ক থেকে আয় হওয়া প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার বা ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ফেরত দিতে হতে পারে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে। এক গবেষণা অনুসারে, আইইইপিএ শুল্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করছিল, যা এখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাণিজ্য ও মার্কিন অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে আমদানি–রপ্তানি খাতের উপর। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।
