ডলারের অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ, রুপার মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, পাশাপাশি রুপার মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ের পর ডলারে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় মূল্যবান ধাতুগুলোর চাহিদা বেড়ে গেছে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ও ডলারের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দিয়েছে। এই রায় প্রেসিডেন্টের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সব দেশের থেকে আমদানির ওপর আরোপিত অস্থায়ী শুল্ক ১০% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করবেন।
এই ঘটনায় ডলারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি স্বর্ণ ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্তকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হিসেবে দেখলেও, ডলারের দাম কমেছে এবং বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্বর্ণ ও রুপার দামের হালনাগাদ তথ্য
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটার দিকে স্পট গোল্ড ১.১% বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,১৬১.৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি ৩০ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এছাড়া এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার্স ২% বেড়ে ৫,১৮৩ ডলারে উঠেছে।
রুপার দামও একইভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করা হলেও বাজার বিশ্লেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে রুপার মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চীনের চন্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে মূল ভূখণ্ডের বাজার বন্ধ থাকায় স্বর্ণের লেনদেনের পরিমাণ কম এবং দাম অস্থির হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে লেনদেন পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত ও বাজার প্রতিক্রিয়া
কেসিএম-এর প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, আদালতের ট্যারিফ-সংক্রান্ত রায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের অসন্তোষের কারণ হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে ট্রেডাররা প্রতিরক্ষামূলক বিনিয়োগ হিসেবে আবারও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে কিছুটা সীমিত করলেও এটি বাণিজ্য অংশীদার বা কোম্পানিগুলোর জন্য পুরোপুরি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটায়নি। তবে বাজারে স্বর্ণের ওপর চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও, ডলারের দাম কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণ ও রুপাকে বেছে নিচ্ছেন। এই প্রবণতা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
