মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের নতুন শুল্কে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
ট্রাম্পের নতুন শুল্কে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের নতুন শুল্কে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে পাল্টা শুল্কারোপের পদক্ষেপ বাতিল করে দেওয়ার পর তিনি নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা পরে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দেন এবং বলেন, তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন যা ‘অবিলম্বে’ কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের এ শুল্ক দিতে হবে, ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার ও বাজারে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়, সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা করবে এবং জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। গত বছরের নভেম্বরে দেশ দুটি নতুন বাণিজ্যচুক্তি করেছিল, যার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আল-জাজিরার সংবাদদাতা জ্যাক বার্টন উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহৎ রাসায়নিক, ওষুধ ও সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের রায় ইতিবাচক, কিন্তু গাড়ি রপ্তানিকারকেরা এখনো সংকটে রয়েছেন। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ৮৫ শতাংশ আসে রপ্তানি থেকে, যুক্তরাষ্ট্র যার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার।

ভারতের অবস্থান

ট্রাম্প আগে ভারতীয় পণ্য আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, কিন্তু চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি প্রাথমিক বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছায়। এই চুক্তিতে ভারতের শীর্ষ রপ্তানি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে বলে জানানো হয়। তবে ‘দ্য ওয়্যার’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এম কে ভেনু বলেন, সমালোচকরা মনে করেন, এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার আগে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত ছিল। ভারতীয় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পরবর্তী আলোচনার আগে রায়ের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে পারে।

চীনের মৃদু প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া কিছুটা মৃদু, কারণ দেশটিতে এখনো চান্দ্র নববর্ষের ছুটি চলছে। বেইজিং থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি রব ম্যাকব্রাইড বলেন, চীনা দূতাবাস একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়েছে যাতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যযুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলজনক নয়। বিশ্লেষকদের মতে, চীনা পণ্যের ওপর বর্তমানে মার্কিন শুল্ক প্রায় ৩৬ শতাংশ, যা কমে ২১ শতাংশে আসতে পারে, ফলে চীনা অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে।

কানাডা ও মেক্সিকোর সতর্কতা

কানাডা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও মোটরগাড়ির ওপর শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম বলেছেন, তাঁর সরকার রায় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করবে। মেক্সিকো সিটি থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা জুলিয়া গ্লিয়ানো উল্লেখ করেন, মেক্সিকো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং ট্রাম্পের শুল্ক থেকে অধিকাংশ পণ্য সুরক্ষিত রয়েছে।

শুল্কারোপের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

যুক্তরাষ্ট্রের ‘মিজৌরি স্কুল অব ল’–এর ইমেরিটাস অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক বোম্যান আল-জাজিরাকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ট্রাম্পের শুল্কের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি ব্যাখ্যা করেন, রায়ে অর্থনৈতিক দিকের চেয়ে সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এবং প্রেসিডেন্ট তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এই রায় বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং বিভিন্ন দেশ এখন আইনি ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছে।