২০২৬ সাল কি অনিশ্চয়তায় ভরা? বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক পূর্বাভাস
২০২৬ সাল কি খুব একটা ভালো যাবে না? এই প্রশ্নটি এখন বিশ্বজুড়ে অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রকাশিত গ্লোবাল রিস্কস প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এক দুশ্চিন্তার খবর দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিশ্ব এখন এক অস্থির প্রতিযোগিতার যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে দেশগুলোর মধ্যে চরম লড়াই দেখা দিতে পারে।
সামনের অল্প কয়েক বছরের জন্য তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী দুই বছরের জন্য বিশ্বনেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে তিনটি প্রধান বিষয়। প্রথমত, দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের লড়াই ও অর্থনৈতিক রেষারেষি। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেটে মিথ্যা খবর ও ডিপফেকের ছড়াছড়ি, যা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তৃতীয়ত, মানুষের মধ্যে বাড়তে থাকা ভেদাভেদ ও সামাজিক বিভাজন।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব স্পষ্ট। দিন দিন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে, কাজের ধরন পাল্টাচ্ছে এবং চারদিকে একটা অস্থিরতা কাজ করছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বড় বড় নেতারা আলোচনায় বসলেও সমস্যাগুলো মেটানো যে খুব কঠিন, তা সবাই বুঝতে পারছেন।
দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা
প্রতিবেদনে দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় বিপদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- জলবায়ু পরিবর্তন: তীব্র গরম, আকস্মিক বন্যা ও জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাওয়া।
- প্রযুক্তির অপব্যবহার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভুল ব্যবহার, যা চাকরি হ্রাস ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
- প্রাকৃতিক বিপর্যয়: প্রকৃতির বড় কোনো বিপর্যয়, যা সম্পদের অভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জন নেতার মধ্যে ৬৮ জন মনে করেন যে পৃথিবীটা সামনের দিনগুলোয় আরও ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে যাবে। আগের অনেক নিয়মই হয়তো আর কাজে আসবে না। এমনকি খুব অল্প কয়েকজন মানুষ আশা করছেন যে বড় বড় বিশ্ব সংস্থা আগের মতো শক্তিশালী হয়ে ফিরতে পারবে।
আগামী ১০ বছরের হুমকি
আগামী ১০ বছরে আমাদের পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে পরিবেশ ও প্রকৃতির বিপর্যয়। তালিকার শীর্ষে আছে তীব্র গরম, আকস্মিক বন্যা ও জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাওয়ার মতো বড় বিপদগুলো। আজ হয়তো আমরা এগুলো নিয়ে অতটা ভাবছি না, কিন্তু ২০৩০ সালের পর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর সম্পদের অভাবই সবচেয়ে বেশি দেখা দেবে।
পাশাপাশি, মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ঋণের বোঝা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। যদিও দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি লড়াই কিছুটা কমতে পারে, তবু পুরো পৃথিবী ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাবে।
সাবধানতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন
এসব বিপদকে মূলত দুই ভাগে দেখা হচ্ছে: আগামী ২ বছরের ছোট ছোট বিপদ আর আগামী ১০ বছরের বড় বিপদ। তাই এখন সবাই সাবধানতার খোঁজ করছে। প্রতিটি দেশ যেকোনো বড় ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, ব্যবসাগুলোর পুরোনো নিয়ম বদলাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষও এই অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
আসলে আগামী দিনগুলো নিয়ে আনন্দের চেয়ে দুশ্চিন্তাই বেশি ধরা পড়েছে এই প্রতিবেদনে। অর্ধেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন যে ২০২৬ ও তার পরের কয়েকটা বছর বেশ অস্থির কাটবে। এমনকি কেউ কেউ এমন সব মহাবিপদ দেখছেন, যা পুরো পৃথিবীর জন্যই খুব ঝুঁকির হতে পারে। এককথায়, সামনের দিনগুলো যে বেশ অনিশ্চয়তায় ভরা, সেটা নিয়ে মোটামুটি সবাই নিশ্চিত।
