এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের নতুন মহাপরিচালক সোনা শ্রেষ্ঠা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক পদে সোনা শ্রেষ্ঠাকে নিয়োগ দিয়েছে। এই পদে তিনি বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কায় এডিবির কৌশলগত পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবেন।
এডিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা
আজ এডিবির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সোনা শ্রেষ্ঠা বলেন, 'আমি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের জন্য এই অঞ্চলের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।' তাঁর এই মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এডিবির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়।
সোনা শ্রেষ্ঠার পেশাগত অভিজ্ঞতা
সোনা শ্রেষ্ঠা একজন স্বনামধন্য উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, যাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা ২৭ বছরেরও বেশি সময় জুড়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে ২৩ বছর তিনি এডিবিতেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিয়োগের আগে তিনি দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপমহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, যা এই পদে তাঁর উত্তরণকে স্বাভাবিক করে তুলেছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পটভূমি
নেপালের নাগরিক সোনা শ্রেষ্ঠার শিক্ষাগত যোগ্যতা অত্যন্ত প্রভাবশালী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া, ম্যাসাচুসেটসের স্মিথ কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। এই শিক্ষাগত পটভূমি উন্নয়ন অর্থনীতিতে তাঁর গভীর জ্ঞান ও দক্ষতাকে তুলে ধরে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভূমিকা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) হলো এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধি সহায়তায় নিবেদিত একটি উন্নয়ন ব্যাংক। সদস্য দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এডিবি উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব কাজে লাগায়। দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে সোনা শ্রেষ্ঠার নেতৃত্ব এই অঞ্চলের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই নিয়োগ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোনা শ্রেষ্ঠার নেতৃত্বে এডিবি এই অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
