বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণ পাওয়ার পর এই অগ্রগতি হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে জানা গেছে।
রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা
রবিবার দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫.৬৩ বিলিয়ন ডলারে, যা বৃহস্পতিবার ছিল ৩৪.৫৯ বিলিয়ন ডলার। এটি ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ রিজার্ভের স্তর।
বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ
আইএমএফ-এর ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.০৭ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রথমবারের মতো ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করল। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিপিএম৬ রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল।
রিজার্ভের পতন ও পুনরুদ্ধার
২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এরপর আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, পুঁজি পাচার উদ্বেগ এবং বিনিময় হারের ওপর চাপের কারণে রিজার্ভ তীব্রভাবে কমে যায়। এক সময়ে মোট রিজার্ভ ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।
রেমিট্যান্স প্রবাহের ভূমিকা
কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক উন্নতির প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহকে চিহ্নিত করেছেন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ জুন পর্যন্ত প্রবাসীরা ৩৩.৯৬ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার বা ১৯.৩১ শতাংশ বেশি।
অর্থনৈতিক প্রভাব
রেমিট্যান্স আয়ের স্থিতিশীল বৃদ্ধি এবং বাহ্যিক অর্থায়ন সহায়তা দেশের রিজার্ভ অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করেছে।



