তুরস্কের কারাগারে বন্দি রয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ যুগল। স্যুটকেসে গাঁজা ভরে যুক্তরাজ্যে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তুরস্কের আইন অনুযায়ী তাদের ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
গ্রেফতার যুগলের পরিচয়
গ্রেফতার তরুণীর নাম হলি কুপার এবং তার প্রেমিকের নাম টেলর জনসন। দুজনেরই বয়স ২০ বছর। তারা ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণ
পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, এক মাস আগে এ যুগল থাইল্যান্ড ভ্রমণে যান। গত ২৬ এপ্রিল থাইল্যান্ড থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে লন্ডনে ফেরার পথে বিমানবন্দরে ট্রানজিট নেওয়ার সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহের তালিকায় পড়েন তারা। তল্লাশিতে তাদের স্যুটকেস থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তাদের গ্রেফতার করে বিমানবন্দরের একটি বিশেষ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ
আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তাদের কারাগারে রাখা হয়েছে। জনসনের পরিবারের দাবি, জনাকীর্ণ কারাকক্ষে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তুরস্কে মাদক চোরাচালান বিরোধী আইন অত্যন্ত কঠোর। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে এ যুগলের।
পরিবারের আইনি লড়াই
হলি ও জনসনের পরিবার তাদের নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালানোর জন্য তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। তাদের দাবি, তারা ‘ভালো ছেলেমেয়ে’ হলেও বড় কোনো অপরাধী চক্রের প্রলোভন ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
পরিবারের বন্ধুর বক্তব্য
পরিবারের এক বন্ধু বলেন, হয়তো এবার তারা বোকামি করেছে, কিন্তু মানুষ মাত্রই ভুল করে। বড় কোনো অপরাধী চক্র তাদের মগজ ধোলাই করে এ কাজে ব্যবহার করেছে। তুরস্কে তারা একদম একা এবং অসহায়। পরিবারের সবাই ভেঙে পড়েছেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তা
এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা তুরস্কে আটক দুই ব্রিটিশ নাগরিকের বিষয়ে অবগত আছে। তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
তুরস্কের মাদক আইন এবং এই প্রেমিক যুগলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে তাদের নিজ শহর ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে।



