দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ক্লিভল্যান্ড শহরতলির একটি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বন্দুকধারীদের অতর্কিত গণগুলিবর্ষণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ জুন) গভীর রাতে ‘জাম্পার্স ইনফরমাল সেটেলমেন্ট’-এ এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে ভারী রাইফেলে সজ্জিত অন্তত ১০ জন সশস্ত্র অপরাধী একটি সাদা টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়িতে করে ক্লিভল্যান্ডের একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে এসে নামে। এরপর তারা দুই দিক থেকে ওই অনানুষ্ঠানিক বসতিটিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। হামলা শেষে তারা একই গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৮ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ আরও ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও খুনিদের ধরতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘হৃদয়হীন’ এবং ‘বর্বর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
জোহানেসবার্গের প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল টমি মথোমবেনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের জানান, হামলার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। তবে এই বসতিটি একটি অবৈধ খনি অঞ্চলের পাশে অবস্থিত হওয়ায় অবৈধ খনির সঙ্গে এর সংযোগ থাকার বিষয়টি তদন্তকারীরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
অবৈধ খনির প্রসঙ্গ
দক্ষিণ আফ্রিকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ সোনার খনির ব্যবসা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে পরিত্যক্ত খনিগুলো দখল করে কালোবাজারে সোনা বিক্রি করা হয়। এই লাভজনক অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রায়ই বিভিন্ন অপরাধী চক্রের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা কিছু এলাকায় অবৈধ খনির কার্যক্রম বন্ধ করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলেন।
সহিংসতার প্রেক্ষাপট
বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের হারের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি লাখ লাখ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের সহিংসতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ওই এলাকায় বসবাসকারী অবৈধ খনি শ্রমিকদের দলগত কোন্দল বা আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
সূত্র: বিবিসি।



